দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রচেষ্টার পর বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় চৌকি আদালত চালুর বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছেন গ্রীন পলিসি মুভমেন্টের আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন (বন্ধু)। তবে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যের একটি ডিও (D.O.) লেটারের অভাবে আদালত চালুর প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মো. মহিউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আলীকদমে চৌকি আদালত স্থাপনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে আদালত চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রচেষ্টার পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীন ‘আলীকদম চৌকি আদালত’ চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আদালত চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনমন্ত্রী বিষয়টি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মহিউদ্দিনের ভাষ্য, আদালতটি চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যের একটি ডিও লেটার প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের বিরোধ, পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজন কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই ডিও লেটার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় ডিও লেটারটি পাওয়া গেলে ইনশাআল্লাহ আগামী দুই মাসের মধ্যে আলীকদম চৌকি আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
আলীকদমবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চৌকি আদালত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন গ্রীন পলিসি মুভমেন্টের আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন।
তিনি বলেন, আলীকদমে চৌকি আদালত চালু হলে বিচারিক সেবা নিতে স্থানীয় জনগণের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজে বিচারিক সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে আদালত চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত, সুপারিশপত্র, আইনমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং ডিও লেটারের প্রয়োজনীয়তা—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।