বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় হাম ও রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভায় মিলিত হন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, "পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাম-রুবেলার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর।
আলীকদমের কুরুকপাতা বাজারে আজ থেকেই অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্প কার্যকর করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতালের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম সেখানে অবস্থান করে পাড়ায় পাড়ায় চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে।"
আলোচনা সভা শেষে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ হাসানের নেতৃত্বে দুই জন চিকিৎসক, তিন জন নার্স এবং এক জন মেডিকেল সহকারীর একটি বিশেষ দল কুরুকপাতার দুর্গম এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই দলটি সেখানে অস্থায়ী ক্যাম্পে থেকে আক্রান্তদের চিকিৎসা ও টিকাদান কার্যক্রম তদারকি করবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন চৌধুরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিনিয়র অফিসার ডা. মো. ইশতিয়াক এবং আলীকদম উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আবুল কালাম। সিভিল সার্জন জানান, সাধারণ টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি এই বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকার প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
সভায় বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি আশ্বাস দেন যে, ভবিষ্যতে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান ও জনবল আরও বৃদ্ধি করা হবে।
এদিকে আলীকদমে গত দুইদিনে ১০ শিশু হাম-রুবেলা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ নিয়ে হাসপাতালে ৩১ শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ শিশু কুরুকপাতা ইউনিয়নের এবং আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কুরুকপাতা ও এর আশপাশের দুর্গম পাড়াগুলোতে এই স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।