শিরোনামঃ

বৈশাখে জমজমাট হালদা পাড়

শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ, রাউজান
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

রাউজানে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিনোদনকেন্দ্র মায়াবী হালদাতে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল পার্কটি।

চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মহাসড়কের রাউজান অংশে হালদা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই বিনোদনকেন্দ্রের ভেতরে শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা ‘মায়াবী শিশু পার্ক’। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এখানে ছিল নানা আয়োজন, খাবারের স্টল ও সাংস্কৃতিক আমেজ। সন্ধ্যা নামতেই পুরো পার্ক সাজানো হয় বর্ণিল আলোকসজ্জায়।

হালদা নদীর তীরবর্তী মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে সব বয়সী মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মায়াবী হালদা। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক একটি উন্মুক্ত পরিবেশ হিসেবে এটি বেশ আকর্ষণীয়। এখানে শিশুরা খেলাধুলা, গান, নাচ, গল্প বলা এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ পায়।

এ পার্কে আগত দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে হালদা নদীতে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হালদা নদীতে নৌভ্রমণ ভ্রমণপিপাসুদের বাড়তি আনন্দ দেয়।

জানা যায়, প্রতিদিন রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার মানুষের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, হাটহাজারী সরকারি কলেজ, রাউজান কলেজ ও গহিরা কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছেও এটি প্রিয় আড্ডাস্থল। পড়ালেখার ফাঁকে অনেক শিক্ষার্থী এখানে এসে গান গেয়ে ও আড্ডা দিয়ে সময় কাটান।

এছাড়া সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবসরপ্রাপ্ত বয়স্কদেরও এখানে সময় কাটাতে দেখা যায়। কেউ চায়ের কাপ হাতে আড্ডা দেন, কেউ নদীর তীরে বসে প্রকৃতি উপভোগ করেন। আবার অনেকেই পরিবার, নাতি-নাতনি নিয়ে পার্কে এসে আনন্দঘন সময় কাটান। পার্ক ঘিরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু খাবারের দোকান, যেখানে বৈশাখ উপলক্ষে বেচাকেনাও ছিল জমজমাট।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু পার্কটিতে রয়েছে প্রায় ৮–৯টি রাইড, নাগরদোলা, নৌকার দোলনা ও বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জাম। পাশাপাশি পার্কের ভেতরে খেলনার দোকান ও প্রায় ১০টি খাবারের দোকান রয়েছে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে হাটহাজারী থেকে আগত দর্শনার্থী বৃষ্টি বড়ুয়া বলেন, “পহেলা বৈশাখে মায়াবী হালদায় এসে খুব ভালো লাগছে। এর আগেও একবার এসেছিলাম। এবার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বৈশাখের আনন্দ উপভোগ করছি।”

ফাতেমা নার্গিস নামে এক কিশোরী জানায়, “হালদা নদীতে নৌভ্রমণ করেছি, ফুচকা খেয়েছি, রাইডে চড়েছি—সব মিলিয়ে খুব ভালো লাগছে।”

মায়াবী হালদার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক পৌর কমিশনার আশেক রসুল রোকন বলেন, “নতুন প্রজন্মের কাছে হালদা নদীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরতে এই শিশু পার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যান্ত্রিক জীবনের বাইরে শিশু-কিশোর ও সব বয়সী মানুষ এখানে এসে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পায়—এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।”

মায়াবী হালদা শিশু পার্কের পরিচালক মাকসুদুল আলম বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখে নানা আয়োজন করা হয়েছে। পার্কে প্রবেশে কোনো টিকিট নেই। এখানে খাবারের দোকানগুলো ঘিরে অন্তত ৫০টি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে।”

স্থানীয়রা আশা করছেন, হালদা নদীর তীরবর্তী এই মনোরম বিনোদনকেন্দ্র ভবিষ্যতে আরও উন্নত করে পর্যটনের বড় আকর্ষণে পরিণত করা হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL