চট্টগ্রামের খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি এলাকায় হিজড়া সম্প্রদায়ের ‘গুরুমা’ মৌসুমী হিজড়াকে হত্যার ঘটনায় মো. মোমিন ওরফে শেখ রনিকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার মো. মোমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার সব্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার সাগরিকা স্টেডিয়ামের পাশে খ্রিস্টান পাড়া (পাঠানপাড়া) এলাকায় ফাল্গুনী হিজড়া নামের এক হিজড়া নেত্রীর বাড়িতে থাকতেন।
খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে যে যুবককে দেখা গিয়েছিল, তাকে ঘিরেই মূলত তদন্ত এগোচ্ছিল। সন্দেহভাজন মোমিনকে গ্রেপ্তার করার পর এখন জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মোমিন স্থানীয়ভাবে ফাল্গুনী হিজড়ার ‘কথিত স্বামী’ হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখে শনাক্তের পর, বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি।
এর আগে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনির একটি বাসা থেকে মৌসুমী হিজড়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৌসুমী ওই বাসায় একা থাকতেন। তদন্তে নেমে পুলিশ বাসার কাছের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করে।
ঘটনার তদন্তে নেমে খুলশী থানা পুলিশ আমবাগান এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করে। ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার রাতে অর্থাৎ ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টা ১৪ মিনিটে সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করেন।
প্রায় দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ঘরের ভেতর তাণ্ডব চালিয়ে ভোর রাত ৩টা ৫২ মিনিটে তিনি বের হয়ে যান। পুলিশ প্রখর সুক্ষ্মতায় ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয় যে, ওই নিশাচর যুবক আর কেউ নন-তিনি মো. মোমিন।
গ্রেপ্তারকৃত মোমিন পাহাড়তলী এলাকার পাঠানপাড়ায় ফাল্গুনী হিজড়ার‘কথিত স্বামী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মৌসুমীর ঘরে থাকা গরু বিক্রির সমস্ত নগদ অর্থ এবং তাঁর ব্যবহৃত দুটি মূল্যবান মোবাইল ফোন উধাও হয়ে গেছে।
পুলিশের ধারণা, খামারের গরু বিক্রির বিপুল অঙ্কের টাকা এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।
খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম জানান, সিসিটিভি ফুটেজের অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই সন্দেহভাজন মোমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশি হেফাজতে আনা হয়েছে।
বর্তমানে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ উন্মোচন এবং খোয়া যাওয়া টাকা ও মোবাইল উদ্ধার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।