চট্টগ্রাম বন্দরের কড়া নিরাপত্তা থাকার পরেও জাল জালিয়াতির চরম কারসাজিতে গায়েব হয়ে গেছে তিন কোটি টাকা মূল্যের আমদানিকৃত কাপড়ের রোলভর্তি একটি কনটেইনার। চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত দুই সিএন্ডএফ কর্মচারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলো— মো. মোর্শেদ আলম (৩১) ও মো. সাইদুর রহমান (৫১)। তাদের মধ্যে মোর্শেদ আলম চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঝিরি ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর আসামি সাইদুর রহমান পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের বন্দর থানাধীন এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৭ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের এফসিএল সেকশনে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার আশ্রয় নেন। এ সময় বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ডকুমেন্ট ও স্বাক্ষর জাল করে ‘অন-ডেট, অন-চেসিস অ্যাসাইনমেন্ট’-এর কপি আসল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
পরে ওই জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে পণ্যবাহী MRSU8692827 নম্বরের ৪০ ফুটের একটি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি তদন্তকালে সিএমপির বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায়, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন)-এর তত্ত্বাবধানে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিমের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বন্দর থানার এসআই (নিঃ) সজিব কুমার আচার্য্যসহ পুলিশের একটি দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের সামনে থেকে মোর্শেদ আলম ও সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যবাহী কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।