বহুল আলোচিত-সমালোচিত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয়বারের মতো ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকায় ইজারা ডাক সম্পন্ন হয়েছে। এবারে ডাক পেল উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক জিয়াবুল হক। চলতি অর্থ বছরের এ পরিষদের প্রথম বারের ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ইজারা ডাক নানা জটিলতায় বাতিল হওয়ায় বুধবার পুনরায় এ ডাকের আয়োজন করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন,পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাজবুব এলাহী।
তিনি বলেন,বান্দরবানের সীমান্তবর্তী
উপজেলা নাইক্ষ্যংছড়ির সদর ইউনিয়ন পরিষদের হাট-বাজার, ঘাট বা বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে টোল-ট্যাক্স আদায়ের জন্য দেয়া ইজারার ডাক সম্পন্ন হয়েছে ।
২৩ জন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ডাকের জন্যে দরপত্র জমা দেন। তবে ডাকে উপস্থিত ছিলেন ২২ জন। এবারের ইজারা ডাক পেলেন সর্বোচ্চ ডাককারী নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের জিয়াবুল হক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডাককারী নুরুল আবসার সোহেল ও তৃতীয় ডাককারী মোহাম্মদ কামাল।
তিনি বলেন,প্রথম ডাককারী জিয়াবুল হক
ডেকেছেন ৬০ লাখ ২০ হাজার। তার নিকটতম প্রার্থী অর্থাৎ দ্বিতীয়জন ডেকেছেন ৫৯ লাখ ২০ হাজার আর তৃতীয় জন ৫৯ লাখ পর্যন্ত ডেকেছেন।
জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন,এর আগে গত ১২ মে প্রথম বারের মতো ডাকের আয়োজন করা হয়। রেকর্ট সংখ্যক ডাককারী ১৩৬ জন এতে অংশ নেন। সে সময় প্রথম সর্বোচ্চ ডাককারী ছিলেন উপজেলা সদরের নুরুল আবসার সোহেল। দ্বিতীয়তজন ছিলেন, জাকের আহমদ।
সেবারে সর্বোচ্চ ডাককারী
নুরুল আবসার সোহেল ডেকেছিলেন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডাককারী ছিলেন জাকের আহমদ। তিনি ডেকেছিলেন ৪০ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রথমজন সেরেন্ডার করায় দ্বিতীয়জন এ ডাকের জন্যে চেষ্টা করলেও
নানা বাদ প্রতিবাদ এবং ব্যাপক সমালোচনার মূখে এ ডাক বাতিল করে দেন প্রশাসন । তবে সরকারের ক্ষতির আশংকায় এ টোল-টেক্স আদায় বা উত্তোলন বন্ধ হয় নি। সরকারের স্বার্থ রক্ষা করতে উপজেলা প্রশাসন খাস কালেকশন করতে থাকে তাদের নিজেদের অধিনস্ত দিয়ে।
এমতাবস্খায় অবশেষে বুধবার (১২ আগষ্ট) সকালে পুনরায় এ ডাক সম্পন্ন হয় প্রকাশ্যে ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইসরাত জাহান ইতু বলেন,সুষ্ঠুভাবে এ ডাক সম্পন্ন হয়। আগের বারের চাইতে
৬০ লাখ টাকা কমে ইজারা ডাকের বিষয়ে তিনি বলেন,ডাককারীরা তাদের নানা সমস্যার কথা জানিয়ে ৬০ লাখ ২০ হাজারের অধিক ইজারা ডাকে নি। ফলে বাধ্যে হয়ে কমে হলেও সর্বোচ্চ ডাককারীকে এ ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান,
এবারে যিনি ইজারা ডাক পেয়েছেন তিনি
উপজেলা ছাত্রদলের একাংশের আহবায়ক জিয়াবুল হক। এর আগের বার যিনি ডেকেছিল তিনি বিএনপি একাংশের সিনিয়র নেতা নুরুল আবসার সোহেল।
আগের ডাকে ১ বছরের জন্যে ইজারা ডাকের চাইতে বুধবারের ডাকে ৬০ লাখ টাকা কম হওয়া মানে নিকুজিশন ডাক এটি: অভিযোগ তাদের ।
তারা আরো জানান,এবারের ইজারা ডাকের দরপত্র নেয়া সকল ডাককারী গত মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) রাতে সমজোতা বৈঠক বসেন। নাটক সাজানো হয় সেখানে। আর পর দিনে এটি মঞ্চস্থ হয়। ৬০ লাখ টাকা সরকার রাজস্ব হারায় এতে।
তারা বলেন, একই স্পট ও একই ব্যক্তিবর্গ নিয়ে আগের ইজারা ডাক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ২০ হাজারে নেমে আসার কারণ এ সবেরই অংশ ? এ সব প্রশ্ন তাদের।
তবে এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)
ইসরাত জাহান ইতুর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। তিনি বলেছেন সামনেই তো সব হয়েছে। গোপনে কি হয়েছে তিনি জানেন না।