শিরোনামঃ

পেকুয়ায় ওয়াকফ এস্টেটের ৪০ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগ

নাজিম উদ্দিন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের প্রায় ৪০ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে নুরুল আলম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি ওই জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সেখানে চিংড়িঘের তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চারপাশে বাঁশের টেংরা ও জালের বেড়া দিয়ে জমিটি ঘিরে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজাখালী ইউনিয়নের বকশিয়াঘোনা এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলমের বসতবাড়ির লাগোয়া ওই জমিটি এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তি। প্রায় দুই বছর আগে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি ওয়াকফ এস্টেটের ইজারাদার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর লবণচাষের জন্য নুরুল আলমকে জমিটি বর্গা দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, লবণচাষ না করে নুরুল আলম সেখানে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ঘের তৈরি করে জমির দখল নেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নুরুল আলমের আগে ওই জমিসহ আশপাশের প্রায় তিন একর জমি বকশিয়াঘোনা এলাকার বাসিন্দা গোলাম কাদের, প্রকাশ বদর আলম, ভোগদখল করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে তৎকালীন মোতোয়ালি হানিফ চৌধুরীর সঙ্গে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে এককালীন অর্থের বিনিময়ে তিনি জমিগুলো লাগিয়াত নেন। ওই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। বদর আলমের পিতার নাম আব্দুল জলিল।

অভিযোগ রয়েছে, নুরুল আলমের বসতবাড়ির সঙ্গে জমিটি লাগোয়া হওয়ায় তিনি প্রতিবছর জমির কিছু অংশ বসতভিটার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। এ নিয়ে দখল ঠেকাতে তৎকালীন মোতোয়ালি হানিফ চৌধুরী জমি ও বসতভিটার মাঝামাঝি একটি খাল খনন করেন। পরে নুরুল আলম ওই খালের কিছু অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন এবং আশপাশের আরও কিছু জমিতে মাটি কেটে চিংড়িঘের তৈরি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের যুগ্ম মোতোয়ালি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন হানিফ চৌধুরী ও এসএম ডা. পারভেজ চৌধুরী। মোতোয়ালি বোর্ডের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম।

এ বিষয়ে ওয়াকফ এস্টেটের মোতোয়ালির কারবারি গিয়াস উদ্দিন বলেন, এস্টেটের প্রায় ৪০ শতক জায়গা জবরদখল করা হয়েছে। আমার দায়িত্ব বিষয়টি মোতোয়ালি স্যারকে অবগত করা। আমি হানিফ চৌধুরীকে বিষয়টি জানিয়েছি। বাকিটা তিনিই দেখবেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল আলম বলেন, আমি কেন জায়গা জবরদখল করব? এই ক্ষমতা আমার নেই। হানিফ চৌধুরী আমার মুনিব, আমার বাপ-দাদার মুনিব। আমি বর্গা চাষা। লবণ চাষ হয় না, তাই চিংড়িঘের করেছি। চুরি ঠেকাতে চারদিকে জালের বেড়া দিয়েছি। বদিউদ্দিন পাড়ার জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে জমি লাগিয়াত নিয়েছি।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এরশাদ আলী ওয়াকফ এস্টেটের মোতোয়ালি বোর্ডের সভাপতি রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ওয়াকফ এস্টেটের জমি দখল কিংবা শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। আমি এস্টেটের কারবারির সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নিয়ে দেখছি।  কেউ জবরদখলের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL