অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় মনোবলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী তাওসিফ। পিতার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে এবার তিনি পাড়ি জমিয়েছেন জাপানে।
জানা যায়, পেকুয়া সদর পূর্ব পুর্ব গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাজেম উদ্দিন ২০১৯ সালে হঠাৎ ইন্তেকাল করেন। ঠিক সেই দিনই তাঁর ছেলে তাওসিফ শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। পিতার আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু সেই কঠিন মুহূর্তে ভেঙে না পড়ে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়ে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং মেধার স্বাক্ষর রাখেন।
পরবর্তীতে এ ঘটনা গণমাধ্যমে স্বচিত্র প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিলেন।
এরপর তাওসিফ চট্টগ্রাম কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন এবং সেখানেও কৃতিত্বের পরিচয় দেন। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন নিজের লক্ষ্যের দিকে।
সর্বশেষ, মেধার স্বীকৃতি হিসেবে স্কলারশিপ নিয়ে জাপানের রাজধানী টোকিওর সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “কোকোশু ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ স্কুল” এ অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার নিজ এলাকা পেকুয়া থেকে বিমানযোগে জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা হন তাওছিফ।
তাঁর চাচা নেজাম উদ্দিন জানান, তাওসিফ উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে গেছে এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।
তাওসিফের মা শফিকা জান্নাত জানান, তাঁর চার সন্তান। ২০১৯ সালে তারা পিতাকে হারান। বড় সন্তান শিক্ষকতা করেন, দ্বিতীয় সন্তান তাওসিফ জাপানে পাড়ি জমিয়েছেন, তৃতীয় সন্তান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থী এবং ছোট সন্তান সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
তিনি আরও জানান, তাঁদের পিতা অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি মসজিদে ইমামতি করতেন। তাঁর আদর্শেই সন্তানদের বড় করে তোলা হচ্ছে। সন্তানদের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
তাওসিফ পেকুয়া উপজেলা সদরের পূর্ব গোঁয়াখালী এলাকার বাসিন্দা, মরহুম শিক্ষক নাজেম উদ্দিনের সন্তান। তাঁর এই সাফল্যে এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের পাশাপাশি গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা বলেন, তাওসিফের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের নয়, পুরো পেকুয়া উপজেলার জন্যই গর্বের বিষয়। তাঁর সফলতা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।