বান্দরবানের লামা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতবর্ষী পুরোনো সরকারি পুকুরে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করে মাটি ফেলে পুকুর ভরাট ও বহুতল বিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণের
অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
এতে করে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের 'বাজার পান্ডের' আওতাধীন ৪৫ শতক জায়গায় অবস্থিত লামা বাজারের একমাত্র প্রাচীন এ পুকুরটি।
অভিযোগ আছে, পুকুরটির উত্তর পাশে বহুতল ভবন নির্মাণ ও পূর্ব পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করে মাটি ভরাট পূর্বক অবৈধ ভাবে জায়গা দখলের বিষয়ে জেলা পরিষদ অবগত থাকলেও অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নেয়নি। এতে করে ভূমি দস্যুরা দখল করে নিয়েছে পুকুরের একাংশ।
এদিকে পুকুরের দক্ষিন পাড়ে উপজেলা পরিষদের কোটি টাকা মুল্যের জায়গা বেদখলে চলে গেছে। সরকারি জায়গা জবর-দখল করে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে একাধিক বসতবাড়ি ও স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,লামা বাজারের একমাত্র শতবর্ষী এই পুকুরের পানি দিয়েই ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো নিবারণ করা হতো,মামলা জটিলতার কারনে দীর্ঘ ১০- ১২ বছর ধরে বে-দখল থাকায় পুকুরটির কিছু জায়গা স্থানীয় লোকজন বসতবাড়িসহ বহুতল বিশিষ্ট ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছে।
লামা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপুল কান্তি নাথ জানান, উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করলেও পুকুরটির স্থায়ী সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া পুকুরের পূর্ব পাড়ে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করে মাটি ফেলে দখল করে নিয়েছে পুকুরের একাংশ। তারা বলেন, পুকুরটি শহরের প্রাণ। পুকুরটি বেদখল হলে শহরের পরিবেশগত মারাত্মক ক্ষতি সাধন হবে। প্রশাসনের উচিত পুকুরটিকে দখল মুক্ত করা।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ পেয়েছি। যতটুকু জমি দখল হয়েছে,তা পরবর্তী উচ্ছেদ অভিযানে দখলমুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান তিনি।