শিরোনামঃ

হঠাৎ বৃষ্টিতে ভেঙ্গে গেল লবণ চাষীদের স্বপ্ন

এমকে হামিদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: এমকে হামিদ
ছবি: এমকে হামিদ

সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ! সময় বাড়ার সাথে সাথে মৃদু হাওয়ার আগাম বার্তা। অনুভূতিতে চাষীদের মুখে ছিলো বেদনার ছাপ। বাড়ী আর মাঠে দৌড়াদৌড়ির পথিমধ্যে আসমান গর্জে আচমকা বজ্রপাতে কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে ভেঙ্গে গেল লবণ চাষীদের স্বপ্ন। 
‎মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার মহেশখালীতে হঠাৎ টাপুরটুপুর বৃষ্টির প্রকোপে ভেঙ্গে গেল লবণ চাষীদের স্বপ্ন। লণ্ডভণ্ড হয়ে পানিতে তলিয়ে গেল লবণ উৎপাদনের মাঠ। এলোমেলো দৃশ্যমান পলিথিন মোড়ানো লবণের স্তুপগুলিই। লোছনে পড়ল চাষীদের দুঃখভরা ভাঙ্গা স্বপ্নের প্রতিকী দৃশ্য। এতে ব্যাপক লোকসানের শঙ্কায় চাষী পরিবার। দেশের মোট লবণ চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করে দ্বীপ মহেশখালী। উপকূলীয় অঞ্চলগুলির মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা, কুতুবজোম, বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, শাপলাপুর, মাতারবাড়ী ও ধলঘাটার প্রায় ২০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। ওই জমিতে প্রতি বছর প্রায় ২ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত লবণ উৎপাদন করতে সক্ষম হন চাষীরা। তবে লবণের ন্যায্য মূল্য না থাকায় লোকসানের ছাপ মাথায় নিয়ে প্রখর রোদে নিরলস পরিশ্রম করে লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও হঠাৎ ধমকা হাওয়ায় ব্যর্থ চাষীরা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কালবৈশাখীর বৃষ্টি ভেঙ্গে গেল লবণ চাষীদের স্বপ্ন। যেহেতু চাষ পদ্ধতি বর্তমানে পলিথিন প্রযুক্তির মাধ্যমে নোনা পানি শুকিয়ে লবণ উৎপাদন করা হয়। যার দরূণ বৃষ্টিতে সব শেষ। 
‎অন্যদিকে বিলে ফসলি জমিতে দুলছে স্বর্ণালী রংএর আমন ধান। ফলনে দেখে চাষীদের মনে ছিলো স্বস্তি। তবে ধান কাটা এবং ঘরে তুলে মাড়ানোর পূর্বে হঠাৎ ধমকা হাওয়ায় তাও লণ্ডভণ্ড হলো। এতে তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মূখীনে পড়বে জানান লবণ চাষী কালারমারছড়ার আশেক উল্লাহ, হোয়ানকের লিটন, বড় মহেশখালীর আব্দুস ছালাম, মাতারবাড়ীর নাছির উদ্দীন, ধলঘাটার কাসেমসহ অনেকেই। এদিকে সচেতনমহল জানান, নভেম্বর থেকে লবণ চাষ শুরু হয়ে ৬মাস মেয়াদে মে'মাসে শেষ হয়। মৌসুম অনুকূলে থাকলে প্রচুর লবণ উৎপাদন হয়। আবার লবণে ন্যায্য মূল্য ফেলে চাষিরা মনে প্রচুর উৎসাহ, উদ্দীপনা ও মূখে হাসি নিয়ে বাড়ী ফিরেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগে কবলিত ও লবণের ন্যায্য মূল্য না থাকলে তারা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বাড়ী ফিরেন। এতে চাষীদের পরিবারের ভরণপোষণ ছাড়াও আর্থিক সংকট এবং ঋণের টাকা পরিশোধে হিমশিমে পড়ার পাশাপাশি অনাহারেও দিনাতিপাত হওয়ার শঙ্কায় ভোগেন। যেহেতু বেশির ভাগ চাষীরা এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ ও মহাজনকে সুদী নিয়ে লবণ চাষ শুরু করেন। এমনটি জানিয়েছেন প্রান্তিক চাষীরা। তারা লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসান ও বিপাকে পড়েন। তৎমধ্যে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হলো লবণ চাষের মাঠ। তাতে মুহুর্তেই শেষ হলো চাষীদের স্বপ্ন। এছাড়া বড় মহেশখালীতে বজ্রপাতের আঘাতে গৃহপালিত একটি গরুর মৃত্যু হয়। তীব্র বাতাসে প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ সড়কে গাছপালা ভেঙ্গে ও লুঠিয়ে পড়ায় যান চলাচলের ব্যাঘাত ঘটে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে মানুষের জীবনযাত্রায় কৃতিম বাঁধায় ভোগছেন। 

‎মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, হঠাৎ কালবৈশাখীতে বিভিন্ন এলাকায় চাষবাদ নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL