শিরোনামঃ

মীরসরাইয়ে নোয়া মাইক্রোবাসে ১৩০ কেজি গাঁজা, ১০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে গাড়ি ফেলে পালাল মাদক কারবারিরা; মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ, অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা

মামুনুর রশিদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি টয়োটা নোয়া মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। তবে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে গাড়িতে থাকা মাদক কারবারিরা গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনায় অজ্ঞাতনামা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৬ আগস্ট) ২০২৬ মীরসরাই থানার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মীরসরাই থানাধীন ইকোনমিক জোন রোডে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশ সন্দেহজনক একটি টয়োটা নোয়া মাইক্রোবাসের গতিবিধি লক্ষ্য করে সেটিকে থামানোর চেষ্টা করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইক্রোবাসটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করে। একপর্যায়ে মাইক্রোবাসটি ফেলে রেখে এর ভেতরে থাকা অজ্ঞাতনামা মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ মাইক্রোবাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৩০ কেজি গাঁজা এবং ১০০ বোতল ফেনসিডিল (FAIRDYL) উদ্ধার করে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত টয়োটা নোয়া মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ১৩০ কেজি গাঁজা বিপুল পরিমাণ এবং ১০০ বোতল ফেনসিডিল রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকদ্রব্যগুলো দেশের অন্য কোনো এলাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে কিংবা চট্টগ্রাম হয়ে অন্যত্র সরবরাহের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে মাদকের প্রকৃত উৎস, গন্তব্য ও এর সঙ্গে জড়িত চক্র সম্পর্কে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মীরসরাই থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মীরসরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মাদক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার কাছে সরবরাহের কথা ছিল এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির মালিকানা ও ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের সরবরাহ, পরিবহন ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী ও পরিবহনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকের উৎস ও সরবরাহকারী চক্র শনাক্ত করে এর মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য বিশ্লেষণ, নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট এবং আন্তঃথানা সমন্বয়ের মাধ্যমে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বলছে, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL