শিরোনামঃ

রাঙ্গুনিয়া দক্ষিণ রাজানগর রাজবাড়ীতে ৩’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা, জনসমাগমে উৎসবমুখর পরিবেশ

মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর রাজবাড়ীতে বসেছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী এই মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে নানা বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবছরও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজবাড়ীর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপকরণ, হস্তশিল্প, খেলনা, মাটির তৈরি সামগ্রী, বাঁশ ও বেতের পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান বসেছে। পাশাপাশি নাগরদোলা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
স্থানীয়দের মতে, এই মেলার ইতিহাস প্রায় তিন শতাব্দী পুরনো। একসময় জমিদারদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আয়োজন এখন গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে মেলায় অংশ নেয়, যা এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, “এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী মেলা আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এ আয়োজনের ভূমিকা অপরিসীম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে মেলাটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।”

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরমান হোসেন বলেন, “মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু পরিবর্তিত হলেও এই মেলা এখনও গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও এখানে এসে হারিয়ে যান স্মৃতিময় অতীতে।
আয়োজকরা জানান, মেলার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন।
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে এই ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা শুধু একটি বিনোদনের কেন্দ্রই নয়, বরং এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে আজও সমানভাবে গুরুত্ব বহন করে যাচ্ছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL