চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ১৯৯১ সালের ঘুর্ণিঝঁেড়র ভয়াল রাতের দুর্যোগ এখনও মানুষের মনে আর্তনাদ তৈরী করে। প্রকৃতির নির্মম আঘাতের দৃশ্য ভেসে উঠতে স্বজন হারা মানুষের অস্্রুসিক্ত হয়ে উঠে। সেই অজানা আতংকে দিন কাটে কুমিরা ও সোনাইছড়ি ও ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাসিন্দরা। সমুদ্রে উত্তল ঢেউয়ের সঁেঙ্গ টিকে থাকার লড়ায় করতে সুখ লাগুও পাচ্ছে না। ঢেউয়ে সব ভেসে যাওয়ার আতংকের মাঝেও পৈত্রিক ভিটায় পড়ে আছে হাজারো পরিবার।
নদী ও পাহাড় বেষ্টিত আয়তনের উপর ছোট পরিসরে সীতাকুন্ড উপজেলা গড়ে উঠেছে। কুমিরা, সোনাইছড়ি ও ভাটিয়ারী ইউনিয়নের অধিকাংশ বসতি উপকূজুড়ে অবস্থিত। তাই প্রকৃতির সাথে লড়ায়- সংগ্রাম বসবাসত বাসিন্দাদের নিত্যনৈমত্তিক নিয়মে পরিনত হয়েছে। বসতি ও সমূদ্র সহাবস্থানে থাকায় দুর্যোগ মোকাবেলা করে জীবন যাপন করতে হয়। এ অবস্থায় প্রকৃতিক দুর্যোগে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হলেও বাঁধ নির্মানের পদক্ষেপ নেই বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলেন,‘ ৯১ সালের ঘুর্ণিঝড়ের তান্ডবে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। শত শত বাড়ি ঘর সমূদ্রে ভেসে জোয়াওে ভেসে যায়। জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছে বহু মানুষ। খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করেছে রাত-দিন। জলোচ্ছাসের সাথে ৫-৭ ফুট উচ্চতায় প্লাবিত হয়ে কেড়ে নিয়েছে শিশু-কিশোর ও বয়োবৃদ্ধদের। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতা বড় দুর্যোগ কখনো দেখা যায়নি। আজও সেই চিত্র মানুষকে আতংকিত করছে। অথচ এ ধরনের ভয়াল দুর্যোগের পরও পুরো উপকূল অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এখনও বর্ষার শুরতে বাড়ি-ঘর জোয়ারের পানিতে ডুব থাকে। জীবন যাত্রা ঘর বন্ধি হয়ে পড়ে বলে জানান জোড়াতলের বাসিন্দা ও স্থানীয় মেম্বার মো সোহেল ।
ভূমি জটিলতায় বেড়ী বাঁধ নির্মানের উদ্যোগ থমকে আছে। ৯ কিলোমিটারের বাঁধের জমি ইয়ার্ড কোম্পানীদের হস্তগত হওয়ায় পদক্ষেপ গ্রহন আরও জটিল আকার ধারন করেছে। ইয়ার্ড মালিকদের অপরাগতায় বাঁধ নির্মান সম্ভব হচ্ছে না। ৯১ বন্যার পর তৈরীকৃত বাঁধ ইয়ার্ড কোম্পানীরা দখলে নিয়ে বিলিন করে দেয়। বাঁধটি ব্যাক্তি মালিকানাধীন জায়গা হওয়ায় আইন পদক্ষেপ সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. সাইফ আহাম্মেদ তানজির ।
তিনি বলেন,‘ জমি অধিগ্রহন ছাড়া বাঁধ নির্মান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় চাইলে বাঁধ পূরুদ্ধারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে। কিন্তু ভূমি জটিলতার দুর করা ছাড়া কোনো কিছু করা সম্ভব না।