শিরোনামঃ

হাটহাজারীর নূরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদার গ্রেপ্তার

মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ
ছবি: মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর মো. নূরুল আজিম প্রকাশ আজম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মো. দিদারুল আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ এলাকায় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাকের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত দিদার হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানাগেছে। নিহত আজম মেখল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খলিফা পাড়া এলাকার মরহুম নূরুল ইসলামের পুত্র এবং তিনি পেশায় একজন দর্জি। জানা যায়, বাড়ির পার্শ্ববর্তী জমিনে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মেয়েকে নিয়ে মাছ ধরতে যায় আজম। সেখানে আজমের উপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি তার। প্রথমে পায়ে গুলি, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আজমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান আসামি দিদারুল আলম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলো। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজীজ জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় ও তৃতীয় নম্বর আসামিকে ঘটনার দিনই উপজেলার গড়দুয়ারা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে মূল হোতা দিদারুল আলম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। একেক সময় একেক জায়গায় অবস্থান করেছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির পর পুলিশ জানতে পারে প্রধান আসামি দিদার গত ১ তারিখ কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি নতুন ভাড়া বাসায় উঠে। বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামিকে সোমবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এদিকে দিদারের গ্রেপ্তারের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করে। নিহতের স্ত্রী বলেন, এই দিদার আজকে আমার পরিবারকে শেষে করেছে, কালকে আরেকজনের পরিবারকে শেষ করবে। দিদারের চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ একদিনে জন্মাইনি। দিদার কথায় কথায় মানুষের উপর আক্রমণ করে। আমার স্বামীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত দিদারসহ সকলের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চায়। আমরা তাদের ফাঁসি চায়। তারা যেন জেল থেকে বের হয়ে আর কোন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে। তাদের বিচার হলে আমার স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে। তাদেরকে এমনভাবে শাস্তি দিতে হবে যেন আর কেউ এইধরনের কর্মকাণ্ড করতে সাহস না পায়।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL