চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে মো. ইসমাইল (১৯) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গণি ব্রিজ সংলগ্ন হিম্মত শিকদার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসমাইল ওই বাড়ির দুবাই প্রবাসী মো. আইয়ুব শিকদারের একমাত্র ছেলে। তারা চার বোন ও এক ভাই ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসমাইল উপজেলার ফতেয়াবাদ এলাকায় একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী রাউজান উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ইসমাইলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন রাতে ওই তরুণী হঠাৎ ইসমাইলের বন্ধু মো. ইরফানকে মুঠোফোনে জানান যে ইসমাইল ঘরের ভেতর ফাঁসি নিচ্ছেন। খবর পেয়ে ইরফান ও তাঁর বন্ধুরা দ্রুত ইসমাইলের বাড়িতে ছুটে যান।
বন্ধুরা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে ঘরের পিছনদিকে গিয়ে টিনের ছাউনি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁরা ইসমাইলকে নিথর অবস্থায় দেখে। তবে ততক্ষণে তাঁকে বাঁচানোর আর কোনো সুযোগ ছিল না। কক্ষের ভেতর তাঁর নিথর দেহ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে থাকতে দেখে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। তবে এর আগেও ঘুমের ওষুধ খেয়ে ইসমাইল আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলেও জানান তার বন্ধুরা।
খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নিয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার এসআই উত্তম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একমাত্র ছেলের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার এবং পুরো মেখল ইউনিয়ন এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।