শিরোনামঃ

হাটহাজারীতে অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

মো. সাহাবুদ্দীন সাইফ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

স্ট্রোকজনিত কারণে দীর্ঘ সময় ধরে শয্যাশায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ। কথা বলার শক্তি হারিয়েছেন অনেকটা, শরীরও চলে না। কিন্তু এই শারীরিক অসুস্থতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় কৃষি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। শুধু আবু আহমেদ নন, একই এলাকার আরও বেশ কয়েকজন কৃষকের জমি জোরপূর্বক দখল করে মাছের প্রজেক্ট করার পায়তারা চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়।

অভিযুক্তরা হলেনঃ- মো. আরিফুল ইসলাম ও এনাম নামের দুই ব্যক্তি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদের পরিবার জানায়, কোনো প্রকার আলোচনা কিংবা জমির মালিকের সম্মতি ছাড়াই অভিযুক্তরা হঠাৎ করে কৃষি জমিতে মাছের প্রজেক্টের খনন কাজ শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে তাঁরা কর্ণপাত করেননি। মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ অত্যন্ত ব্যথিত কণ্ঠে বলেন, দেশের জন্য লড়াই করেছি, কিন্তু আজ নিজের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে পারছি না। কোনো নিয়মনীতি না মেনেই জোরপূর্বক আমার জমিতে দখলদারিত্ব চালানো হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার চাই।

একই এলাকার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের আবাদি কৃষি জমিগুলোও একইভাবে জবরদখলের চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তরা নিজেদের প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে এবং প্রশাসনকে প্রভাবিত করার ভয় দেখিয়ে সাধারণ কৃষকদের জমি হাতিয়ে নিতে চাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. আরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে দাবি করেন, তিনি কোনো জমি দখল করেননি। তিনি বলেন, আমি বৈধ স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি গ্রহণ করেছি। জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই মাছের প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি। তবে কৃষকদের আপত্তির মুখে কীভাবে অনুমতি পেলেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি জানতে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মুমিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষথেকে কোন সারা পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা প্রশাসনের সাথে উভয়পক্ষের এক বৈঠকে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের কাজ নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানাগেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তিতে এমন জবরদখল জাতির জন্য লজ্জাজনক। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কৃষি জমি রক্ষায় এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL