রামুতে এক প্রভাশালীর বিরুদ্ধে জোর পুর্বক জায়গা দখল ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যাক্তি রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পশ্চিম মেরংলোয়া ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দলিল লেখক সালাহ উদ্দিন মিজান বলে জানা যায়।
সুত্রে জানা যায়, রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন এর ফতেখাঁরকুল মৌজায় মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী রামু বাইপাস চত্তরে গাড়ির কাউন্টার সংলগ্ন বি,এস ৩৪৫৪নং খতিয়ানের ১৭৮৮ বি,এস দাগের ৭ শতক জমি জোর পুর্বক দখল করে নেয় দলিল লেখক সালাহ উদ্দিন মিজান। এদিকে দখলে নেওয়া জমির মালিক সোলেহনামা মুলে দর্শক বড়ুয়া ও মোজাফফর কোম্পানীর ওয়ারিশগণ হলেও রেজিট্রি বায়না মুলে উক্ত জমির মালিক মনোয়ার আলম গং বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, রামু মধ্যম মেরংলোয়া বড়ুয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা সুবর্ণ বড়ুয়ার আর,এস ৭৫৬ ও ১১২৪ নং দলিল মুলে তার পুত্র অসিত বড়ুয়ার ওরিশি অংশ থেকে ১ একর ২০ শতক জমি ক্রয় করেন নিমাংশু বড়ুয়া। নিমাংশু বড়ুয়ার মৃত্যুর পর উক্ত জমি ভোগ দখল করে আসছেন ওয়ারিশী মালিক তার পুত্র দর্শক বড়ুয়া।
ইতি পুর্বে রামু কলেজ গেইট সাতঘড়িয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোজাফফর আহাম্মদ কোম্পানীর সাথে দর্শক বড়ুয়ার পিতা নিমাংশু বড়ুয়ার টাকার লেনদেন জনিত কারনে জমি প্রদান করার চুক্তি সংক্রান্ত একটি ষ্টাম্প চুক্তি নামার ভিত্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করেন মোজাফফর কোম্পানী। ফলে ষ্টাম্প চুক্তি মুলে জমির মালিকানা দাবীর মামলায় মোজাফফর আহাম্মদ কোম্পানীর পক্ষে আদালত রায় প্রদান করেন।
আদালতের রায়ের ভিত্তিতে মোজাফফর আহাম্মদ কোম্পানীর নামে বি,এস ৩৪৫৪ নং খতিয়ানও সম্পন্ন হয়। এক পর্যায়ে আদালতের দেওয়া রায়ের বিরোদ্ধে নিমাংশু বড়ুয়ার পুত্র দর্শক বড়ুয়া বাদী হয়ে অপর আদালতে আপিল মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানেও কোর্টে চলমান রয়েছে।
আপিল মামলা চলাকালীন সময়ে মোজাফফর এর ওয়ারিশদের সাথে দর্শক বড়ুয়ার আপোষ মিমাংসা হলে উভয় পক্ষ ঐক্য মত্যের ভিত্তিতে আদালতে সোলেহনামার আবেদন করেন। যার ফলে উভয় পক্ষের জমি বিরোধের সমাধান হযে যায়।
সোলেহনামার ভিত্তিতে উভয় পক্ষ বিরোধীয় জমির মালিকানা লাভ করেন। এক পর্যায়ে উক্ত জমি ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড পশ্চিম মেরংলোয়া এলাকার মনোয়ার আলম গং এর ৮ জনের সাথে ন্যায্যে মুল্যে ১ একর ৮ শতক জমির রেজিষ্ট্রার্ড ও আনরেজিষ্ট্রার্ড বায়নানামা সম্পাদন করেন।
সম্প্রতি সময়ে দলিল লেখক সালাহ উদ্দিন মিজান বি,এস ৩৪৫৪ নং খতিয়ানের বি,এস ১৭৮৮দাগেন ৭শতক জায়গা জোর পুর্বক দখল করে কাজ করার চেষ্টা করলে মনোয়ার আলম ও রোকন উদ্দিন মেম্বার গং পুলিশের জরুরী সেবায় ফোন দিয়ে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেন।
পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দিলে সালাহ উদ্দিন মিজান ও মনোয়ার আলম গং উভয়ে আলোচনা সাপেক্ষে জায়গা পরিমাপ এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এদিকে সালাহ উদ্দিন মিজান জায়গা পরিমাপের সিদ্ধান্তের কথা বলে কৌশলে মনোয়ার আলম, নুরুল আবছার, শাহাব উদ্দিন, রোকন উদ্দিনসহ অজ্ঞাত নামা আরো ৪ জনকে আসামী করে রামু থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য একই মামলা একই এজাহারে আদালতেও একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন বলে জানান। যা সম্পুর্ণ পরিকল্পিত ও মিথ্যা মামলা বলে দাবী করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবী এই মামলাটি সম্পুর্ণ মিথ্যা হয়রানীর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সালাহ উদ্দিন মিজানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, আমি জায়গা দখল করিনি মোজাফফর কোম্পানী অন্যের জায়গা দখল করে রেখেছেন। সাক্ষাত হলে পুরো বিষয়টি পরিস্কার করে বলবেন বলে জানান।
এদিকে রামুর সচেতন মহল, প্রশাসনের দুই পক্ষের জমি সংক্রান্ত্র বিরোধ সুষ্ঠ তদন্ত পুর্বক কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করে সঠিক সমাধান করে দেওয়ার দাবী জানান।