পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে দীর্ঘদিনের ঝাপসা দৃষ্টির অন্ধকার ভেদ করে অবশেষে নতুন আলোর দেখা পেলেন ৮৪ জন অসহায় মানুষ। মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ি রিজিওনের মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে পরিচালিত বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের জীবনে ফিরেছে নতুন আশার আলো।
গত ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজার ২৫ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষার মাধ্যমে ১২৭ জনকে ছানি অপারেশনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে মহালছড়ি জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ৮৪ জন রোগীকে চট্টগ্রামের লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সফলভাবে ছানি অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।
পুরো কার্যক্রম মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আল জাবির আসিফ, পিএসসির সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। রোগীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা সমন্বয় ও নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করে মহালছড়ি জোন।
এ বিষয়ে মহালছড়ি জোনের আরএমও ক্যাপ্টেন মো. বোরহান উদ্দিন বায়োজিদ বলেন, দুর্গম এলাকার অনেক মানুষ অর্থাভাবে চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। সময়মতো চিকিৎসা পেলে ছানি রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
অপারেশন শেষে নতুন করে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া এক রোগী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, অনেক বছর ধরে ভালোভাবে দেখতে পারতাম না। ভেবেছিলাম হয়তো আর কখনো স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারবো না। সেনাবাহিনীর এই সহযোগিতায় আজ আবার স্পষ্টভাবে পৃথিবী দেখতে পাচ্ছি। তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মানবিক সহায়তার এ ধরনের উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মহালছড়ি জোনের এই মহতী উদ্যোগ অসংখ্য মানুষের জীবনে নতুন আলো ও নতুন স্বপ্নের দ্বার উন্মোচন করেছে।