শিরোনামঃ

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আইরনম্যান স্বপ্ন পূরণ, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উড়াবে রাজন

সাকিব মামুন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সাকিব মামুন
ছবি: সাকিব মামুন

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম দৌড়বিদ মোহাম্মদ রাজন মিয়ার আইরনম্যান লাংকাউই মালয়েশিয়া ২০২৭-এ অংশ নেওয়ার স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় সব ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছেন। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজন মিয়া।

পেশায় শিক্ষক হলেও ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে মোহাম্মদ রাজন মিয়া এক অনুপ্রেরণার নাম। সুস্থ জীবনধারার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় উদ্বুদ্ধ করে আসছেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের এই সহকারী অধ্যাপক।

সম্প্রতি তিনি ১৬১ কিলোমিটার ও ২১৪ কিলোমিটার দীর্ঘপাল্লার দৌড় সম্পন্ন করে আলোচনায় আসেন। এখন তার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক মানের ট্রায়াথলন প্রতিযোগিতা আইরনম্যান লাংকাউই মালয়েশিয়া ২০২৭-এ অংশ নেওয়া।
 
আইরনম্যান প্রতিযোগিতায় একজন অ্যাথলেটকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সাঁতার, ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ৪২ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার ম্যারাথন দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৩ সাল থেকে কোচের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত অনুশীলন করছেন রাজন মিয়া।
 
তবে ব্যয়বহুল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ডিবিসি নিউজ, টাইমস টুডেতে প্রতিবেদন প্রচারিত হলে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে আরও কয়েকটি গণমাধ্যমও তার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরে।
 
এরই ধারাবাহিকতায় প্রচারিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হককে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সম্প্রতি সময়ে জাতীয় সংসদে রাজন মিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি আইরনম্যান লাংকাউই মালয়েশিয়া ২০২৭-এ অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব খরচ সরকারিভাবে বহনের আশ্বাস দেন।
 
এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে রাজন মিয়া লিখেন, তিনি কখনও ভাবেননি যে শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিবেদনটি দেখবেন এবং তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 
তিনি আরও জানান, প্রতিমন্ত্রী তাকে আন্তরিকভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে, আইরনম্যান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সব ব্যয় সরকার বহন করবে। একজন সাবেক সফল ফুটবলার হওয়ায় প্রতিমন্ত্রী একজন ক্রীড়াবিদের সংগ্রাম সহজেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 
রাজন মিয়া বলেন, সারাদিন ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা ও খাতা মূল্যায়নের কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্পন্সরের জন্য ঘুরে বেড়ানো একজন শিক্ষকের জন্য বিব্রতকর। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এমন ব্যয়বহুল খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন।
 
তিনি আরও বলেন, দেশের চার কোটি শিক্ষার্থী যেন তাকে দেখে শুধু একজন শিক্ষক নয়, বরং একজন আইরনম্যান, অ্যাথলেট, সুস্থতা ও খেলাধুলায় ক্রীয়াঙ্গনের প্রতীক হিসেবে অনুপ্রাণিত হয়। একই সঙ্গে দেশের মানুষ যেন বিশ্বাস করে, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে যে কোনো বয়সেই যে কেউ খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে। সবশেষে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরাই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে অর্জনে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL