মাত্র ৩ ঘন্টার ভারী বর্ষণে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর বাজার সহ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।
মৎস্য প্রজেক্টের বাঁধ ভেঙ্গে ভেসে গেছে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮ টায়
শুরু হওয়া এ বৃষ্টি ছিল অস্বাভাবিক। টানা ৪ ঘন্টায় পুরো এলাকা একাকার হয়ে যায়।
উপজেলা সদরের বাজার,মার্মা পাড়া,স্কুল পাড়া,বড়ুয়া পাড়া সহ অন্তত ১০ গ্রাম উজানের পানিতে তলিয়ে যায়।
এভাবে ৫ ইউনিয়নে আরো ১০ টি গ্রাম পানির নিচে চলে যায়। তবে এ পানি আরো ৩ ঘন্টার মাথায় কমতে শুরু করে।
স্বস্তিবোধ করে উপজেলার হাজার মানুষ।
এদিকে মৎস্য চাষি কফিল উদ্দিন ও মোহাম্মদ শফি বলেন তাদের ২ জনের বিরাট আকারের মৎস্য খামারের বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে অন্তত ১২ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এভাবে রোববারের হঠাৎ প্রবল বর্ষণে উপজেলার ছোট বড় ১০ টির অধিক মাছ চাষের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অপর দিকে গত ৪ জুলাই থেকে টানা ৮ দিন থেমে ভারীবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কর্মচঞ্চল উপজেলা সদরের স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনেও বাইরে বের হওয়া মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রবিবার (১২ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আদর্শ গ্রাম, জারুলিয়াছড়ি বিজিবি চেকপোস্ট এলাকা, সদর বাজার, মার্মা পাড়া, পেট্রোল পাম্প এলাকা, ছালামি পাড়াসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক দোকানপাট ও বসতবাড়ির আঙিনায় পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষ ভ্যানযোগে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এবারই আবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা। একটানা বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, শিক্ষা কার্যক্রম এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুলতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান প্লাবিত ও জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ভ্যানে করে প্লাবিত সড়ক অতিক্রম করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
এদিকে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দও। তারা বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফয়েজ আহমেদসহ এলাকাবাসীর দাবি, নাইক্ষ্যংছড়ি খালে দ্রুত একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ বা কার্যকর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে সামান্য ভারী বর্ষণেই উপজেলা সদরকে বারবার একই ধরনের জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হবে।