অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাছের ঘের, পুকুর ও গবাদিপশুর খামারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানির তোড়ে ভেসে গেছে কোটি টাকার মাছ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য মাছের প্রকল্প। পানি নেমে যাওয়ার পর একে একে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ১,৪০০টি পুকুর ডুবে গিয়ে আনুমানিক ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে শোভনদণ্ডী, ছনহরা, ভাটিখাইন, খরনা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা ও পৌরসভা এলাকার মাছচাষিদের পুকুর এবং কেলিশহর, হাইদগাঁও, ধলঘাট ও দক্ষিণ ভূর্ষি এলাকার পোনা চাষিদের পুকুর পানিতে তলিয়ে যায়।
শোভনদণ্ডী এলাকার মাছচাষি মো. লোকমান বলেন, তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্ধশতাধিক পুকুরে মাছ চাষ করছেন। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তাঁর ১৫টি পুকুর সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এতে তাঁর ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাঁর খামারে ৮ থেকে ১০ জন কর্মচারী কাজ করেন। পুকুর ডুবে যাওয়ায় তিনি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
এ বিষয়ে পটিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, “টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পটিয়ায় আনুমানিক ১,৪০০টি পুকুর ডুবে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছি। তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর সরকার বরাদ্দ দিলে ক্ষতিগ্রস্তরা সহায়তা পাবেন।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও ডেইরি খামারিদের সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া উপজেলায় প্রায় ৩০০টির বেশি ছোট-বড় ডেইরি খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে গরুর কাঁচা ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি সময়মতো দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় দুধ উৎপাদনও কমে গেছে বলে খামারিরা জানিয়েছেন।
পটিয়া ডেইরি খামার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল বলেন, “দুধের বাজারমূল্য যেখানে প্রতি লিটার ৮০ টাকা, সেখানে অনেক খামারি ৩০ থেকে ৪০ টাকাতেও দুধ বিক্রি করতে পারেননি। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুধ বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিপুল পরিমাণ দুধ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া পানিতে আটকা পড়ে অনেক খামারির গবাদিপশু মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পুনর্বাসনে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, প্রাণিসম্পদ খাতে ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তালিকা সম্পন্ন হলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।”
মৎস্য খাতে প্রায় ৩ কোটি এবং প্রাণিসম্পদ খাতে আরও ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হওয়ায় পটিয়ায় বন্যার কারণে দুই খাত মিলিয়ে আনুমানিক ৬ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। তাদের ভাষ্য, এ পরিমাণ ক্ষতির পর সরকারি সহায়তা না পেলে অনেক খামারি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে খামার টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।