কক্সবাজারের পেকুয়ায় পাওনা টাকা দেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ভাবিকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে দেবরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়িয়াখালী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত নারীর নাম হাদিসা বেগম প্রকাশ হায়সা (৪২)। তিনি পাহাড়িয়াখালী এলাকার ওমান প্রবাসী আলী হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযুক্ত আহমদ ছবি একই এলাকার বাসিন্দা। সম্পর্কে তারা আপন দেবর-ভাবি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়িয়াখালী এলাকায় আহমদ ছবি ও হাদিসা বেগমের মধ্যে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে বিষয়টি থানাতেও গড়ায়। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আহমদ ছবি হাদিসা বেগমের বাড়িতে ঢুকে তাকে ব্যাপক মারধর করে আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত হাদিসা বেগম বলেন, ভিসা সংক্রান্ত লেনদেন আছে দেবর আহমদ ছবির সঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে সালিশি বৈঠকে টাকা পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিমাসের শেষের দিকে টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী প্রায় ২০ দিন আগে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করি।
তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমার এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ধারদেনা করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। বিয়েতে কিছু টাকাও বকেয়া ছিল। আহমদ ছবিকে বলেছি কয়েকদিন পর টাকা দেব। পরে দূরসম্পর্কের এক বোনের জামাই আমাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার দিয়েছেন। মঙ্গলবার রান্নাঘরে বসে ওই টাকাগুলো গুনছিলাম।
হাদিসা বেগমের অভিযোগ, এ সময় আহমদ ছবি ও তার স্ত্রী রেশমি এসে টাকার বান্ডিল ধরে টানাটানি শুরু করে। একপর্যায়ে দুজন মিলে আমাকে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে জখম করে। টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী টমটমচালক আবছার বলেন, বাড়ি থেকে একজন মহিলার কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। সেখানে গিয়ে দেখি, একজন পুরুষ ওই নারীকে এলোপাতাড়ি মারধর করছে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করি।
হাদিসা বেগমের ছোট বোন হাবিবা আক্তার বলেন, বোনকে মারধরের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। তার পুরো শরীরে আঘাত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।