যানজট, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, পরিবেশ দূষণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ দখল নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভায় একের পর এক নাগরিক সমস্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবিতে এবার লিখিত আবেদন করেছেন পেকুয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট।
পেকুয়ার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলামের কাছে এসব দাবিতে লিখিত আবেদন জমা দেন তিনি।
আবেদনে পেকুয়া চৌমুহনী ও পেকুয়া বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশে থাকা ভাসমান দোকান ও হকারদের নিয়ন্ত্রণ করে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা, যানজট নিরসন, বাজারের বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট জায়গায় ডাস্টবিন স্থাপন এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া পেকুয়া বাজারস্থ ছালেহা কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ঐতিহাসিক খেলার মাঠটি দখলমুক্ত করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। বাজারে চুরি প্রতিরোধে হাই-পাওয়ার ক্যামেরা স্থাপনসহ আরও কয়েকটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আবেদনে তুলে ধরা হয়।
কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়ার মানুষ যানজট ও ফুটপাত দখলের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনীতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। গত তিন মাস ধরে যুবদলের নেতাকর্মীরা বাজারের যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, পেকুয়ার ছালেহা কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি একসময় খেলাধুলায় ভরপুর ছিল। বর্তমানে বিভিন্নভাবে জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় এবং ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় সেখানে খেলাধুলার পরিবেশ নেই। আমাদের শিশু-কিশোরদের জন্য মাঠটি আবারও উন্মুক্ত ও খেলাধুলার উপযোগী করা প্রয়োজন। এ কারণেই সাংবাদিক ভাইদের সঙ্গে নিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরে লিখিত আবেদন করেছি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলাম বলেন, কামরান জাদিদ মুকুটের পক্ষ থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দাবি লিখিতভাবে পাওয়া গেছে। এসব দাবির মধ্যে যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বাজার ও চৌমুহনীতে ডাস্টবিন স্থাপন, ছালেহা কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ঐতিহাসিক খেলার মাঠ উন্মুক্ত করা এবং বাজারে চুরি প্রতিরোধে হাই-পাওয়ার ক্যামেরা স্থাপনসহ বেশ কয়েকটি বিষয় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডাস্টবিন স্থাপনের জন্য একটি জায়গা চিহ্নিত করে অস্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়ে তহসিলদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
খেলার মাঠ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, ওই জায়গার ফাইলটি বের করার জন্য তহসিলদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি জায়গা কেউ দখল করে থাকলে আইনগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।
পরে সহকারি কমিশনার(ভুমি) আনিসুল ইসলামের নির্দেশে তহসিলদার মাহামুদুল হক যুবদল নেতা মুকুটসহ সাংবাদিকদের নিয়ে অস্থায়ী ডাসবিন স্থাপনের জায়গা ও খেলার মাঠ উম্মুক্তকরণের জায়গা পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনীর দীর্ঘদিনের যানজট কমবে, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ হবে এবং শিশু-কিশোরদের জন্য হারিয়ে যাওয়া খেলার মাঠটি আবারও ফিরে আসবে। এতে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার নাগরিক জীবন কিছুটা হলেও স্বস্তির মুখ দেখবে।