শিরোনামঃ

তীব্র গরমে ফিরেছে হাতপাখার কদর, লোডশেডিংয়ে স্বস্তির একমাত্র ভরসা

নাজিম উদ্দিন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

প্রচণ্ড গরম আর ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কক্সবাজারের পেকুয়ায় আবারও বেড়েছে হাতপাখার কদর। একসময় গ্রামের ঘরে ঘরে দেখা মিলত তালপাতা, বাঁশের বেত ও কাপড়ে মোড়ানো নকশাদার হাতপাখার। আধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্যের দাপটে সেই ঐতিহ্য প্রায় হারিয়ে গেলেও বর্তমান তাপদাহ ও লোডশেডিং যেন আবার ফিরিয়ে এনেছে হাতপাখার সেই পুরোনো জৌলুস।

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্লাস্টিকের তৈরি হাতপাখার পাশাপাশি তালপাতার হাতপাখাও বেশ বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে দুপুর ও রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে অতিষ্ঠ মানুষ এখন হাতপাখার দিকেই ঝুঁকছেন।

একসময় গ্রামগঞ্জে যখন বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, তখন বাতাস করার একমাত্র ভরসা ছিল হাতপাখা। সন্ধ্যার পর উঠানে বসে গল্প করতে করতে কিংবা ঘুমানোর সময় হাতপাখা ছাড়া চলত না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক ফ্যান, এসি ও কুলারের ব্যবহার বাড়ায় হাতপাখা হারিয়ে যেতে বসেছিল। এখন আবার সেই পুরোনো সঙ্গী ফিরে এসেছে।

গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন,
দিনে-রাতে এত বেশি লোডশেডিং হচ্ছে যে ফ্যান ছাড়া থাকা কঠিন। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। তাই এখন হাতপাখাই ভরসা। রান্নাঘরেও কাজ করতে হাতপাখা লাগে।

আশিউর্ধ্ব আলমাছ খাতুন নামের এক বৃদ্ধা বলেন,
আগে তো সারাজীবন হাতপাখা দিয়েই কাটিয়েছি। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। এখন আবার সেই দিন ফিরে এসেছে মনে হয়। বিদ্যুৎ গেলে হাতপাখা ছাড়া উপায় থাকে না।

ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী কবির আহমদ বলেন,
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাতপাখার বিক্রি অনেক বেড়েছে। আগে খুব কম মানুষ কিনত, এখন প্রতিদিন অনেকে এসে হাতপাখা নিচ্ছেন। বিশেষ করে উপকূল ইউনিয়নের গ্রামের মানুষ বেশি কিনছেন।

পেকুয়া বাজারের হার্ডওয়্যার ও ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী ছাদেক বলেন, ফ্যান, চার্জার ফ্যান ও আইপিএসের চাহিদা বাড়লেও সবার পক্ষে সেগুলো কেনা সম্ভব হয় না। তাই কম দামের হাতপাখা এখন মানুষের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। তবে তাঁর দোকানে চার্জার ফ্যানের চাহিদা বেশি।

রাজাখালী এয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোহান বলেন, রাতে পড়তে বসলে বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে বসে থাকা যায় না। তখন এক হাতে বই আর অন্য হাতে হাতপাখা নিয়ে পড়তে হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর এরফান বলেন, তাপদাহে শরীরের ওপর চাপ বাড়ে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

গ্রামের লোকজনের ভাষ্যমতে এখন হাতপাখাই একমাত্র সঙ্গী। তাই আপাতত স্বস্তির সহজ সমাধান হয়ে উঠেছে বহু পুরোনো ঐতিহ্যের প্রতীক হাতপাখা। তাদের দাবি, গরমের এই মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে হাতপাখার যুগ হয়তো আবার স্থায়ীভাবে ফিরে আসবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL