চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে উদ্বৃত্ত বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে।এর নেপথ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের নাম বারবার উঠে আসছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়, ব্যয় ও উদ্বৃত্ত—তিনটি সূচকেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে আয় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি এবং ব্যয় সামান্য কমে যাওয়ায় উদ্বৃত্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৯ কোটি ১ লাখ টাকা, যা বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রকাশিত আর্থিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের মোট আয় হয়েছে ৬ হাজার ৮০১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ২৬.৭৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে বন্দরের ব্যয় কমেছে ০.৬৮ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ৪১ লাখ টাকায়।
আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকায় বন্দরের উদ্বৃত্ত বেড়ে ৪ হাজার ৪২৯ কোটি ১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ৯৭৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে উদ্বৃত্ত বেড়েছে ৪৮.৭৩ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন্দরের মোট আয় ছিল ৪ হাজার ৮৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ব্যয় ২ হাজার ১১৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ৭১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। পরের অর্থবছরে আয় ১১.১০ শতাংশ, ব্যয় ১২.৯৪ শতাংশ এবং উদ্বৃত্ত ৯.৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আর্থিক সূচকে আরও বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে।
বন্দরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কনটেইনার ও পণ্য হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি, পরিচালন দক্ষতা, রাজস্ব আদায়ে উন্নতি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে এই ইতিবাচক ফলাফল এসেছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের আর্থিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও নতুন বিনিয়োগ বাস্তবায়নে এই উদ্বৃত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে আয় বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। এটি শুধু বন্দরের আর্থিক ভিত্তিকেই আরও মজবুত করবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।