চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় জাহাজের নিরাপদ চলাচল ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরসীমা, বহির্নোঙর ও মার্চেন্ট শিপ প্যাসেজে অননুমোদিত নৌযান চলাচল, জাহাজের পাশে অনুমতি ছাড়া ভিড়ানো এবং অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজে অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সম্প্রতি বন্দরসীমা, বহির্নোঙর ও মার্চেন্ট শিপ প্যাসেজে অননুমোদিত নৌযান চলাচল এবং অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপনের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজে আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা (ISPS Code) এবং প্রচলিত বন্দর নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে। বহির্নোঙরে অবস্থানরত প্রতিটি জাহাজে সার্বক্ষণিক অ্যাঙ্কর ওয়াচ, ভিএইচএফ চ্যানেল ১৬ ও ১২ মনিটরিং, নিয়মিত ডেক পেট্রোল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। বন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের (পোর্ট কন্ট্রোল) পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ফ্রেশ ওয়াটার বার্জ, সার্ভিস বোট বা অন্য কোনো নৌযান জাহাজের পাশে ভিড়তে পারবে না। সন্দেহজনক নৌযান বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পোর্ট কন্ট্রোল ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে জানাতে বলা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজে নিরাপত্তা জোরদারে প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োগের জন্য জাহাজের মাস্টার ও শিপিং এজেন্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ওয়াচম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়াচম্যান বুকিং সেলের সুপারিশ ও অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরসীমা, প্রবেশপথ, মার্চেন্ট শিপ প্যাসেজ ও বহির্নোঙরে অবৈধভাবে মাছ ধরা, মাছ ধরার জাল স্থাপন কিংবা ফিশিং বোটের মাধ্যমে নৌ-চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব কার্যক্রম বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে এবং দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌ-নিরাপত্তা জোরদারে ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (VTMIS)-এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পুলিশ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, মার্কেন্টাইল মেরিন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর টহল, নজরদারি ও সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, জারি করা নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।