চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান শিপিং চ্যানেল ও বহির্নোঙরে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিচালিত এ অভিযানে বহির্নোঙর এলাকা থেকে ১৭টি সুতার জাল, ১৩টি টং জালসহ বিভিন্ন ধরনের জাল স্থাপনে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ ও অপসারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে বন্দরের ‘কাণ্ডারী-১২’ ও চারটি স্থানীয় বোট অংশ নেয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ ও একটি বোটও অভিযানে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বহির্নোঙর ও নেভিগেশনাল রুটে অবৈধভাবে স্থাপন করা এসব জাল জাহাজ ও অন্যান্য নৌযানের নিরাপদ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। একই সঙ্গে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্দরের নেভিগেশনাল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল। অভিযানের সময় এসব জাল অপসারণের মাধ্যমে মূল শিপিং চ্যানেল ও নেভিগেশনাল রুটে জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা উন্মুক্ত করা হয়।
অভিযান শেষে জব্দ করা অবৈধ জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি নেভিগেশনাল রুটে অবস্থানরত ফিশিং বোটগুলোকে চ্যানেল এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট মাঝিমাল্লাদের নেভিগেশনাল চ্যানেল ও নৌ-চলাচল রুটে পুনরায় অবৈধভাবে জাল স্থাপন না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচল ও নৌ-নিরাপত্তার স্বার্থে চ্যানেলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের নেভিগেশনাল সেফটি বজায় রাখা, জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙরে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সমন্বিত তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সব নৌযান ও মাঝিমাল্লাকে নির্ধারিত নৌ-চলাচল রুট মেনে চলা এবং নেভিগেশনাল চ্যানেলে জাল বা অন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা স্থাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।