শিরোনামঃ

শ্বশুর শাশুড়িকে পিতামাতা সাজিয়ে জন্মনিবন্ধন এনআইডি; সত্যতা পেয়েও ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বান্দরবান পৌর প্রশাসক

মোহাম্মদ ইলিয়াছ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

বান্দরবানে শ্বশুর শাশুড়িকে পিতা মাতা সাজিয়ে ভূয়া জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার নাম কামরুল হাসান। তার বাড়ি হচ্ছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায়। কামরুল শুধু এতোটুকুতেই থেমে থাকেনি। এই ভূয়া জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি দিয়ে ভূয়া জায়গার কাগজ (জমাবন্দি/ খতিয়ান) তৈরি করে কিনেছেন জায়গা জমিও। যেখানে পার্বত্য এলাকায় পার্বত্য আইন অনুযায়ী জায়গা কিনতে হলে যে কিনবে তার নামে বা তার ওয়ারিশদের নামে আগে থেকেই জায়গা থাকতে হয়। তাছাড়াও পার্বত্য আইন অনুযায়ী পার্বত্য জেলার বাহিরের লোকজন জায়গা কেনারও কোন সুযোগ নাই।

কিন্তু অভিযুক্ত কামরুল হাসান এই অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছে কোন এক অদৃশ্য শক্তি দিয়ে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হলেও বান্দরবানে এসে বিয়ে করে শ্বশুর শাশুড়িকে পিতামাতা সাজিয়ে ভূয়া কাগজপত্র দাখিল করে একে একে জন্মনিবন্ধন, এনআইডি তৈরি করে। পরে এই জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি দিয়ে পার্বত্য এলাকায় ভূয়া জায়গার কাগজ তৈরি করে জায়গা জমি কেনা শুরু করে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটা জমি তার নামে রেজিষ্ট্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়গুলো ২০২৩ সালের দিকে জানাজানি হয় এবং সত্যতাও পেয়েছিল তৎকালিন পৌরসভার মেয়র ইসলাম বেবি। পরে ২০২৩ সালে ইসলাম বেবি মারা যান। বর্তমানে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে আছেন বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারনে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না এই পৌরসভা প্রশাসক মনজুরুল হক। অথচ রেজিষ্টার জেনারেলের কার্যালয় থেকে স্পষ্ট চিঠি ইস্যু করা হয়েছে জন্মনিবন্ধনটি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়েছে বিধায় সনদটি আইনসিদ্ধ নয় এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১৫(ক) মোতাবেক বাতিল যোগ্য।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ব্যক্তি জানান, অবৈধ উপায়ে এবং ভুল তথ্যের দিয়ে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি করা দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া স্বত্বেও এই অপরাধের বিচার না করে উল্টো প্রশাসন তাদের পক্ষ নেওয়া মানে হচ্ছে তাদেরকে অবৈধ কাজে উৎসাহিত করা। 

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কামরুল হাসান বলেন,
আমাকে ১০/১১ বছর বয়সে দত্তক নিয়েছিল আমার শ্বশুড় শাশুড়ি। তাই বাবা মা হিসেবে জন্মনিবন্ধন এনআইডি করেছি। 

বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক বলেন, বিষয়টা এখনো পেন্ডিং। রেজিষ্টার জেনারেল কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দিয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে সেটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রেজিষ্টার জেনারেলের কাছে আবারো চিঠি লিখেছি। বিষয়টি আরো ক্লিয়ার হওয়া দরকার। আমরা চাইলেই তো জন্মনিবন্ধন বাতিল করতে পারিনা।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL