চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা ও বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, জেলে, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরে সংস্কার ও পাকাকরণের অপেক্ষায় থাকা এসব সড়ক এখন জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী বাজার থেকে পূর্বদিকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ডিবি রোড (আমতলী সড়ক) দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ে।
সড়কটির মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত মগধরা সকিনা ওয়াজি উল্ল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। এছাড়া সড়কটির আশপাশে বসবাসকারী শত শত কৃষক ও জেলে পরিবার তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং নদী থেকে আহরিত মাছ বাজারে নিয়ে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অপরদিকে একই ওয়ার্ডের মগধরা মাইটভাঙা সীমান্তবর্তী পেলিশ্যা কানেক্টিং টু জসিম মসজিদ (প্রেমনগর সড়ক) দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। কাঁচা ও ভাঙাচোরা এ সড়কে হেঁটে চলাও অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সড়ক দিয়েই মগধরা হাজেরা ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমতলী নন্দীরহাট ও পেলিশ্যা বাজারে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ এ পথ ব্যবহার করলেও এখন পর্যন্ত সড়কটি পাকাকরণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত দুই সড়কের উন্নয়ন ও পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, সড়ক দুটি সংস্কার করা হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।