চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার ১০ নম্বর বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী বাউরিয়া-দোজানগর সড়ক দ্রুত পাকাকরণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি কাঁচা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় একাকার হয়ে পড়ে, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউরিয়া-দোজানগর সড়কটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হলেও বছরের পর বছর সংস্কার ও উন্নয়নের অভাবে বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে।
সড়কটির মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত ১২৫ নম্বর মধ্য পূর্ব বাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি ও ভোগান্তির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। বৃষ্টির দিনে অনেক শিক্ষার্থী কাদা ও পিচ্ছিলতার কারণে বিদ্যালয়ে যেতে না পারায় তাদের পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে নোয়াহাট থেকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা কৃষিনির্ভর হওয়ায় সড়কের বেহাল অবস্থার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপর। ধান, গম, সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদনের পর সেগুলো বাজারে পরিবহন করতে অতিরিক্ত খরচ ও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন (৬৫) বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির কোনো উন্নয়ন হয় না। দ্রুত সড়কটি পাকা করা হলে হাজারো মানুষের ভোগান্তি দূর হবে।”
সাহাব উদ্দিন (৫৫) বলেন, “রাস্তার কারণে আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে খুব কষ্ট হয়। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় শিশুরা পড়ে গিয়ে আহতও হয়।”
কৃষক আবুল কালাম (৫৯) বলেন, “কাঁচা রাস্তার কারণে মাঠ থেকে উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা এবং বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, ফলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।”
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধা এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে বাউরিয়া-দোজানগর সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, “সড়কটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”