চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ নদীভাঙনের ফলে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে দ্বীপটির সংযোগ স্থাপনকারী ৩৩ কেভি সৈয়দপুর-বাউরিয়া সাবমেরিন কেবলের একটি অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এতে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চুরি, দুর্ঘটনা এবং পুরো দ্বীপজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাউরিয়া ইউনিয়নের সন্দ্বীপ চ্যানেল-সংলগ্ন ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের দুটি সাবমেরিন কেবল বর্তমানে দৃশ্যমান অবস্থায় রয়েছে। কেবলগুলোর ওপর থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন, বিশেষ করে শিশু-কিশোররা কেবলের ওপর ওঠানামা ও ছবি তোলায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কেবল সুরক্ষা ও ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) চিঠি দিয়েছে। তবে পাউবো জানিয়েছে, বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে চ্যানেলের ভেতরে অবস্থিত ভাঙনকবলিত এলাকায় মাটি ভরাট বা ব্লক স্থাপনের মতো কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে মাছ ধরতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে ওই এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের কারণে ধীরে ধীরে মাটি সরে গিয়ে কেবলগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, পিডিবির চিঠি পাওয়ার পর প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ভাঙনকবলিত অংশটি চ্যানেলের ভেতরে হওয়ায় সেখানে কোনো ধরনের প্রতিরক্ষা কাঠামো নির্মাণ বা জরুরি সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পিডিবিকে জানানো হবে।
প্রকৌশল-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৩৩ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক কেবল উন্মুক্ত অবস্থায় থাকায় এর আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ লিকেজের ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে নৌযানের নোঙর বা অন্য কোনো ধাতব বস্তুর আঘাতে কেবল বিচ্ছিন্ন হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সন্দ্বীপের সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপের বাউরিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবল স্থাপনের মাধ্যমে সন্দ্বীপকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বর্তমানে দ্বীপটিতে প্রায় ৫৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এটি সংবাদপত্রের প্রথম পাতা বা জেলা প্রতিনিধি প্রতিবেদনের উপযোগী করে আরও শিরোনাম, উপশিরোনাম ও তথ্যবহুল ইনট্রোসহও সাজানো যেতে পারে।