মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বিশ্ব অলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর রওজা শরীফেগত শুক্রবার জুমার নামাজের পর কেন্দ্রীয় মিলাদ, কিয়াম ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।কেন্দ্রীয় মিলাদ-মোনাজাতে গাউসিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মওলা হুজুর মাইজভাণ্ডারী (মা.) বলেছেন এই মহান মাস, মাহে রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পবিত্র মাস। আপনার পেয়ারা হাবিবের আগমনে এই পৃথিবী নব আলোয় আলোকিত হয়েছে, নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে, বিশ্ব মানবতা মুক্তি লাভ করেছে। মওলা, আপনার এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার লক্ষ্যে আপনার বান্দারা, আশেকে রাসূলগণ, আশেকে আউলিয়ায়ে কেরামগণ দিকে-দিকে, দেশে-দেশে অগণিত আয়োজনের মাধ্যমে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(সা.)-এর হক আদায়ের চেষ্টা করছেন মওলা। পবিত্র মাসের মর্যাদাকে নিজেদের অন্তরে ধারণ করার চেষ্টা করছেন, ঈদে মিলাদুন্নবী মাহফিল আমাদের ঈমানের দাবি, আমাদের আকিদার দাবি, আমাদের মুহাব্বতের দাবি-এই দাবি পূরণের জন্যে আপনার বান্দারা যে সমস্ত প্রচেষ্টা নিয়েছেন, যে সমস্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন, ইন্তেজাম করেছেন এই সমস্ত আয়োজনকে আপনি কবুল করে নিন। মাসব্যাপী যে ইন্তেজামগুলো হয়েছে, হবে, হচ্ছে, মওলা সমস্ত ইন্তেজামকে, সমস্ত মাহফিলকে আপনি কবুল করে নিন এবং এই ঈদে মিলাদুন্নবী(সা.) মাহফিলের বরকতে আপনার পেয়ারা হাবিবের অগণিত দরুদ শরীফ পাঠের বরকতে এই বাংলাদেশের উপর আপনার রহমত বর্ষণ করুন। এ বিশ্ববাসীর উপর আপনার রহমত বর্ষণ করুন এই প্রার্থনা করেন।
মোনাজাতে তিনি আরো বলেন, এ পবিত্র উপলক্ষ্যকে, আমাদের অন্তরের পবিত্রতা অর্জনের উপলক্ষ্যকে, আপনার নেয়ামতের হক আদায়ের এ উপলক্ষকে, আমাদের উম্মাহর দিক-নির্দেশনা পাওয়ার এই উপলক্ষ্যকে ঈদে মিলাদুন্নবী(সা.) মাহফিল গুলোকে যারা নানানভাবে বাধাগ্রস্ত করতে চায়-রাব্বুল আলামীন- তাদেরকে আপনি হেদায়েত দান করুন। তাদের সঠিক সমঝের জন্যে, বুঝ-ব্যবস্থার জন্যে, হেদায়েতের জন্যে আমরা এই দরবারে পাক থেকে ফরিয়াদ করছি, আমাদের ফরিয়াদ কবুল করুন। তাদের ইলমের মধ্যে, তাদের ফাহমের মধ্যে যে সীমাবদ্ধতা আছে, দুর্বলতা আছে-এগুলো যাতে তারা অনুধাবন করতে পারে, তাদের অন্ধত্ব যাতে দূর হয়ে যায়, মওলা তাদের অন্তরে আপনি আলো দান করুন। পুরো উম্মাহর ঐক্যের সূত্র হিসেবে আমরা যাতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(সা.) মাহফিলকে উদযাপন করতে পারি এই উম্মাহকে আপনি সেই সৌভাগ্য দান করুন।
তিনি উপস্থিত সকলের গুনাহ-খাতা ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেন,আমাদের গুনাহ-খাতা ক্ষমা করুন। হুজুর গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর গোলামেরা শুধু একটি দিন কিংবা মাস নয়, সারা বছর এই মিলাদ-মাহফিলকে তাঁরা জাগ্রত রেখেছেন, নিজেদের পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সমস্ত দৈনন্দিন কার্যাবলিতে তাঁরা মিলাদ শরীফকে অপরিহার্য অংশ বানিয়ে আপনার পেয়ারা হাবিবের এই যে মহান নেয়ামত দিয়েছেন, এ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের জন্য সারা বছর তাঁরা এই কাজটি জারি রেখেছেন মওলা।এটি যাতে আমরা জারি রাখতে পারি সেই তাওফিক দান করুন। আমাদের সারা বাংলাদেশের এই জাতি যাতে এই পবিত্র আমলটি জারি রাখতে পারে সেই তাওফিক দান করুন।
কেন্দ্রীয় মিলাদ কিয়াম ও মোনাজাতে অংশ নেন দরবারে আগত আশেক ভক্তবৃন্দরা। পুরো মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ দরুদ শরীফ, জিকির আজকার ও আমিনের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে। মোনাজাতে তিনি মাহে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে আয়োজিত সব মিলাদ-মাহফিল কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর ওপর রহমত বর্ষণ এবং উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করেন।