দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেলেন খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার দুই অসচ্ছল মানুষ। কর্মহীন ও দরিদ্র পরিবারের আয়-রোজগারের পথ তৈরি করতে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পার্বত্য ফাউন্ডেশন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপজেলার প্রত্যন্ত পান্নাবিল এলাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. মনসুর আলী এবং ভোলাইয়াপাড়া এলাকার হতদরিদ্র আসমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন পৌঁছে দেন।
সংগঠনটির উদ্যোগে সেলাই মেশিন পাওয়ায় এখন ঘরে বসেই কাজ করে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এককালীন সহায়তার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটাতে পারবেন।
শুধু আত্মকর্মসংস্থান নয়, দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনপদের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় উৎসাহিত করতেও কাজ করছে পার্বত্য ফাউন্ডেশন। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে আসছে সংগঠনটি।
ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সাল থেকে অনেকটা প্রচারের আড়ালেই পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক ও দুর্গম জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় মানিকছড়িসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, কোরআন শরিফ, শিক্ষার্থীদের গাইড বই ও নতুন পোশাক বিতরণ, টিউবওয়েল সংস্কার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টরা বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই হতদরিদ্র মানুষের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে। এতে উপকারভোগীরা ঘরে বসে কাজ করে আয় করতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।