শিরোনামঃ

পটিয়ায় দুই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সংঘটিত দুটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে নিখোঁজ পাঁচ বছরের শিশু জায়হান হত্যা মামলায় তিনজন এবং পঙ্কজ শীল হত্যা মামলায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুন পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহজাহান তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. জায়হান নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পটিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) শিশুটিকে উদ্ধারে যৌথ অভিযান শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে শিশুটির পরিবারের বসতঘরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির রেখে যাওয়া মুক্তিপণ ও হুমকিমূলক একটি চিরকুট উদ্ধার হয়। চিরকুটের লেখা, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে।

পরে সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৯) নামে এক তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে। তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয় এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মুক্তিপণের নাটক সাজানো হয়।

আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে তাদের বসতঘরের পেছনের নর্দমার ময়লার স্তূপ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় জায়হানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, গত ৯ জুন পটিয়া উপজেলার চক্রশালা এলাকায় সংঘটিত পঙ্কজ শীল হত্যা ও তিলক চক্রবর্তীকে হত্যাচেষ্টা মামলারও রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, চক্রশালা এলাকার একটি সড়কে সন্দেহজনকভাবে অবস্থানরত এক নারী ও এক পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পঙ্কজ শীল ও তিলক চক্রবর্তীর ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় পঙ্কজ শীলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিলক চক্রবর্তী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর পটিয়া থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুন টেকনাফ এলাকা থেকে মো. আব্দুল রহমান (২৩) এবং ১৮ জুন চন্দনাইশ এলাকা থেকে ফাতেমা বেগম নেহা (১৯)কে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সময় তাদের পরিহিত পোশাকও জব্দ করা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে দুটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL