চট্টগ্রাম নগরীর বহুল আলোচিত হিজরা খাল সংস্কার কাজের ৬৮ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় সিডিএর দায়িত্বে থাকা ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় চলমান হিজরা খালের সংস্কার কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, “সিডিএর আওতায় ৩৬টি খালের সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩০টি খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও পাঁচটি খালের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বহুল আলোচিত হিজরা খালের ৬৮ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।”
গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে টানা ভারী বর্ষণের কারণে প্রবর্তক মোড়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে বেলায়েত হোসেন বলেন, “চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার একটানা বৃষ্টির কারণে এখানে জলাবদ্ধতা হয়েছিল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে হবে।”
তিনি জানান, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হিজরা খালের সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ১৩৫টি স্থাপনা অপসারণ করতে হয়েছে, যার মধ্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির একটি ভবনও রয়েছে।
বেলায়েত হোসেন বলেন, “একবার নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমরা হিজরা খালের ৬৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছি। আশা করছি শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই খালটির অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।”
নগরীর লালখান বাজার থেকে জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, কাপাসগোলা ও শুলকবহর হয়ে চাক্তাই খাল পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ হিজরা খাল জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের আওতাধীন ৩৬টি খালের মধ্যে সর্বশেষ সংস্কার কার্যক্রম শুরু হওয়া খাল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কাজ শুরু হওয়ার পর চলতি বছরের মার্চ শেষে এর অগ্রগতি ছিল ৩২ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, “সিডিএর আওতাভুক্ত খালগুলোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীন খালগুলোর সংস্কার কাজও দ্রুত শেষ করতে হবে। অন্যথায় এসব খালের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। সব খালের সংস্কার সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করতে পারলে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা আর থাকবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে বেলায়েত হোসেন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পূর্তমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আমাকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকল্পগুলো হলো— জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং আউটার রিং রোড। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চট্টগ্রামে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। আমরা একটি সবুজ, নান্দনিক ও আধুনিক নগরী চট্টগ্রামবাসীকে উপহার দিতে চাই।”
বুধবার সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার প্রথম কর্মদিবসেই তিনি কর্মকর্তা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং আউটার রিং রোড প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।