পার্বত্য খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ দুর্গম কাতাল মনি পাড়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট ও যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ। পানির অভাব ও নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ওই এলাকার প্রায় ১৭০টি পাহাড়ি- পরিবারের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর আকুতি অবহেলিত রয়ে গেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
দূষিত পানি পানে স্বাস্থ্যঝুঁকি
৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জলমেল ত্রিপুরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম কাতাল মনি পাড়ায় পর্যাপ্ত নলকূপ বা আধুনিক কোনো পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা নেই। ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে কড়া রোদ ও দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে দূরবর্তী ঝিরি ও ছড়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। বর্ষা বা স্বাভাবিক সময়ে ঝিরির ঘোলা ও দূষিত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়ার কারণে শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ সর্বস্তরের মানুষ মারাত্মক পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবহেলা ও দুর্ভোগ
সুপেয় পানির পাশাপাশি পাড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নাজুক। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও কাঁচা রাস্তার কারণে জরুরি প্রয়োজনে মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত বাসিন্দারা
ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুপেয় পানি ও নিরাপদ সড়ক পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও তারা যুগের পর যুগ ধরে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত। প্রশাসনিক নানা উন্নয়ন কাজ হলেও এই পাহাড়ি পল্লীর পানির হাহাকার ও যাতায়াত কষ্ট কাটেনি।
জনস্বার্থ বিবেচনায় কাতাল মনি পাড়ায় অবিলম্বে গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল), রিংওয়েল কিংবা পাইপলাইনের মাধ্যমে টেকসই পানি সরবরাহ এবং সড়ক সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন ইউপি সদস্য জলমেল ত্রিপুরা। এ বিষয়ে পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা নাসরিন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন সর্বস্তরের এলাকাবাসী।