কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যার পানি নেমে গেছে। কিন্তু সেই পানির স্রোত জেসমিন আক্তারের জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে নিরাপদ আশ্রয়, স্বস্তি আর নিশ্চিন্ত দিনগুলো। ভাঙাচোরা ঘর, মাথার ওপর পলিথিনের ছাউনি আর তিন সন্তানকে আগলে বেঁচে থাকার লড়াই এটাই এখন তার প্রতিদিনের বাস্তবতা।
সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা চৈরভাঙ্গা এলাকার গৃহবধূ জেসমিন আক্তারের বসতঘর বন্যার তীব্র স্রোতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংসারের সামান্য যা কিছু ছিল, তাও নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ভাঙা ঘরের বিভিন্ন অংশ পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে কোনো রকমে সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছেন তিনি।
আকাশে মেঘ জমলেই বুক কেঁপে ওঠে জেসমিনের। বৃষ্টি নামলে পলিথিন ভেদ করে কখন পানি ঘরে ঢুকে পড়ে সেই শঙ্কায় কাটে প্রতিটি রাত। তবুও জীবন থেমে নেই। তিন সন্তানকে বুকে আগলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন এই সংগ্রামী মা। সন্তানদের মুখের হাসিই তাকে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার সাহস জোগায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেসমিনের স্বামী ফোরকান আহমেদ একজন দিনমজুর। বন্যার আগেই কাজের সন্ধানে এলাকার বাইরে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে এখনো বাড়ি ফিরতে পারেননি। স্বামীর অনুপস্থিতি আর বন্যায় বিধ্বস্ত ঘর এই দুই দুশ্চিন্তা একসঙ্গে বহন করছেন জেসমিন। অর্থের অভাবে ঘর মেরামত করতে না পেরে বাধ্য হয়ে পলিথিন দিয়েই কোনো রকমে আশ্রয় তৈরি করেছেন।
জেসমিন আক্তার জানান, বন্যার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে তারা ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন। সেই সহায়তায় কয়েকদিন সংসার চললেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি নিরাপদ ঘর।
চোখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর কণ্ঠে অসহায় আবেদন নিয়ে জেসমিন বলেন, বন্যায় আমার ঘরটি ভেঙে গেছে। স্বামী এখনো বাড়ি ফিরেনি। তিন সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। বৃষ্টি হলে পলিথিনের নিচে সন্তানদের নিয়ে রাত পার করতে হয়। একটি ঘর পেলে অন্তত সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারতাম। এখন সেই আশাতেই দিন গুনছি।