কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক রুপাইখাল ও রঙিখাল থেকে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর শত একর সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রভাবশালী একটি মহল প্রবাহমান খালে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে অবৈধভাবে দখল নিয়ে ব্যক্তি মালিকানায় চিংড়ি ঘের গড়ে তুলেছিল। এতে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে খনন করা রুপাইখাল ও রঙিখালের গভীরতা ছিল প্রায় ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ছিল প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ফুট। একসময় খাল দুটি ছিল উন্মুক্ত ও প্রবাহমান। স্থানীয় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ এসব খালে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অতীতে খাল দুটিতে কুমিরেরও বসবাস ছিল বলে প্রবীণদের দাবি।
কালের পরিক্রমায় প্রভাবশালীরা খালের বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম বাঁধ (গুদা) নির্মাণ করে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সেখানে চিংড়ি ঘের স্থাপন করায় বর্ষা মৌসুমে মগনামা ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়েন। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি চিংড়ি ঘের, লবণমাঠ ও ফসলি জমি তলিয়ে গিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয়রা।
সাম্প্রতিক বন্যার সময় ত্রাণ বিতরণকালে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে প্রবাহমান খাল থেকে সব ধরনের অবৈধ বাঁধ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁর নির্দেশনায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরীর নেতৃত্বে চার দিনব্যাপী অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে অন্তত ২১টি কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে কংকরের পিলার, গাছের খুঁটি এবং মাছ ধরার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত হয়ে খাল দুটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম, ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন, মোকতার আহমদ, পেকুয়া থানার পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও অবৈধ দখল ও বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই সরকারি খাল দখল করতে দেওয়া হবে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে মানুষ জিম্মি থাকবে না। পানি চলাচল স্বাভাবিক থাকলে মানুষকে আর ডুবে থাকতে হবেনা। বাঁধ অপসারণ হলে মানুষের সীমাহীন কষ্ট ও দুর্ভোগ কমবে।
তিনি আরও বলেন, খাল দখলমুক্ত করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনই আমাদের লক্ষ্য।