চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রশ্নে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যায়নি সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সব দিক বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট-এর এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চুক্তি স্থগিত, বিশ্লেষণে সরকার
শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর সঙ্গে চুক্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বর্তমান সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “যে পর্যায়ে বিষয়টি ছিল, এখনো সেখানেই আছে। আমরা সব দিক—সুবিধা-অসুবিধা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—খতিয়ে দেখছি।”
নিরাপত্তা, সক্ষমতা ও প্রযুক্তির প্রশ্ন
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জোর দিয়ে বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দেশের নিজস্ব সক্ষমতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি অর্জন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, “অন্য কোনো কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে আমাদের অর্জিত সক্ষমতায় কোনো ব্যত্যয় ঘটে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়েই একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত আসবে।”
‘জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটবে সিদ্ধান্তে’
মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার কোনো সিদ্ধান্তই হঠাৎ করে নেবে না। “দেশ ও জনগণের স্বার্থ ধারণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,”—যোগ করেন তিনি।
বন্দর উন্নয়ন ও চলমান প্রকল্প
চট্টগ্রাম সফরে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের কথাও জানান নৌমন্ত্রী। তিনি বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনা বর্তমানে ভালো থাকলেও আরও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বান্দরবানের সীমান্ত সড়কসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি সংকট ‘কৃত্রিম’—মন্ত্রীর দাবি
জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী দাবি করেন, চাহিদার তুলনায় বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও কিছু মহল কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “অনেক জায়গায় অবৈধ মজুদের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে।” এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে অনুসন্ধানী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার এবং অবৈধ মজুদ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
এদিন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সারসংক্ষেপ:
এনসিটি ইস্যুতে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিদেশি কোম্পানির সম্পৃক্ততা নিয়ে সুবিধা-অসুবিধা, নিরাপত্তা ও জাতীয় সক্ষমতার বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।