চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকার বা শাসন বলতে কিছু নেই। আগেও কতটা ছিল, সে বিষয়ে প্রশ্ন আছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য পলাতক। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার সংস্থার অধীন জনগণের দৈনন্দিন কাজগুলো করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মীরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভাতে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন সনদ সংশোধন ও নাগরিক সনদ করকে দীর্ঘ সময় লাগছে। সরজমিনে দেখা যায় মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সামনে সবসময় মানুষের ঝটলা লেগেই থাকে।
এছাড়াও স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো। সড়ক সংস্কার, সড়কে বাতি লাগানো, গৃহস্থ আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, নদী-নালা পরিষ্কার, ডেঙ্গু রোধ—এমন অনেক কাজ রয়েছে, যা নিয়মিত সম্পাদনা বা রক্ষণাবেক্ষণ করা না গেলে বিবিধ সমস্যা তৈরি হয়।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখনও প্রশাসক দিয়ে চলছে কার্যক্রম।
১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়ন থেকে মীরসরাই সদরে আসতে যেতে একজন নাগরিকের ৩৫ কি:মি: অতিক্রম করতে হয়। এমনকি আসার পরও কাজ জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বা দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়।
ইছাখালী মুহুরী প্রজেন্ট থেকে ওয়ারিশ সনদ করতে থেকে ভূমি অফিসে এসে, আলিম উদ্দিন বলেন, ওয়ারিশ সনদের জন্য তিন দিন আসার পরও স্বাক্ষর না হওয়ায় সনদ না পেয়ে ফেরত আসলাম।
সাহেরখালী ভোরের বাজার থেকে আসা ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন বলেন, ট্রেড লাইসেন্স আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরের জন্য তিন দিন আসার পরও স্বাক্ষর হয়নি।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটার হওয়ার সময় নির্ধারিত। তাই নির্বাচন অফিসে ও ইউএনও অফিসে এত ভীড়।
এবিষয়ে মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, শুনানীর দিন লোকজন বেশী হয়। তাছাড়া আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকে। ওয়ারিশ সনদ দিতে যাচাই করতে হয় বেশি এই জন্য সময় লাগে। দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন হবে। তখন সমস্যা কেটে যাবে।