চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার নথি অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ হাটহাজারীতে ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামারে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন—শাখাটির সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন এবং জাফরুল্লাহ তানভীর। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে ক্যাশ ভল্টে সংরক্ষিত নগদ অর্থের হিসাব মিলানোর সময় বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। পরদিন (১০ আগস্ট) বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি রয়েছে। এ ঘটনায় একই দিন শাখাটির জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল হোসেন অর্থের ঘাটতির বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয় যে, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের মধ্যে ১০০ টাকা বা তারও কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল তৈরি করা হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিলগুলো পূর্ণাঙ্গ মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ অনেক কম থাকত।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এভাবে সরিয়ে নেওয়া অর্থ জাফরুল্লাহ তানভীরের তত্ত্বাবধানে বিনিয়োগ করে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সেখানে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন জানান, গ্রাহকদের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আসামিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য, বিভিন্ন স্ক্রিন রেকর্ড এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংবলিত ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভও জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।”
এদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আত্মসাতের অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।