চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আরিফুল হক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রুমানা রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা বৃন্দ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সানাউল্লাহ এবং উপজেলা ফুড সেফটি পরিদর্শক ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর টিটু কান্তি পাল।
এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক,ব্র্যাক, সিপিপি এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।” তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে হবে না; প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগেই ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সভায় বক্তারা বলেন, “নিজের ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।” তারা সবাইকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।