খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাঁচা মরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চললেও বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র দুটি। ফলে পাঁচটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সীমিত পরিসরে পাঠদান করতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক সময় বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসিয়েও শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পড়ে। এতে পাঠদানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুটি শ্রেণিকক্ষে সব শিক্ষার্থীর জায়গা না হওয়ায় কোনো কোনো সময় বারান্দায় বসে পাঠ নিতে হচ্ছে তাদের। ফলে একদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকট, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিভাবকেরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান। মাত্র দুটি কক্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। অনেক কষ্টের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা জরুরি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কণিকা খীশা বলেন, “বিদ্যালয়টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ—এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বেলায়েত হোসেন বলে, “বৃষ্টি হলে আমাদের বিদ্যালয়ের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এতে বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। আমরা একটি নতুন বিদ্যালয় চাই।”
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাহানা আক্তার বলে, “আমাদের বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ কম। মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষে আমরা পড়াশোনা করি। আমাদের আরও শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ব্যবস্থা করা হোক।
স্থানীয়রা জানান, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে সেখানে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।