শিরোনামঃ

বন্দরের রেকর্ড ভাঙ্গার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন মনিরুজ্জামান!

চট্টগ্রাম বন্দরের পূর্বদিগন্তে একের পর এক সাফল্যের সূর্য উদিত হচ্ছে।উদিত সূর্যগুলোর মহানায়ক চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান।আর কতো রেকর্ড ভঙ্গ করলে উদিত সূর্য থামবে।জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাইলফলকে প্রভাব ফেলবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস।উদ্বোধন হলো ওয়ান স্টপ সার্ভিস।৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন থেকে মাসে আয় হবে ৫ কোটি টাকা।

★★ ইতিহাস গড়ল চট্টগ্রাম বন্দর, আয়-অপারেশনে সর্বকালের সেরা অর্জন

★★ নতুন উচ্চতায় চট্টগ্রাম বন্দর

বিশ্বমানের স্মার্ট বন্দরের পথে চট্টগ্রাম বন্দর ★★অর্থবছরে নজিরবিহীন সাফল্য

রাজস্ব, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে নতুন ইতিহাস চট্টগ্রাম বন্দরের

★★শূন্য অপেক্ষমাণ সময় থেকে কাগজবিহীন সেবা, এক বছরে আমূল বদলে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর

★★ কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি; রাজস্ব উদ্বৃত্তে সর্বকালের সেরা অর্জন।

★★ ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আধুনিক নিরাপত্তায় বিশ্বমানের বন্দরের পথে চট্টগ্রাম।

★★ড্রেজিং ব্যয়ে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয়, শূন্য অপেক্ষমাণ সময় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা স্বীকৃতিতে নতুন মাইলফলক

মামুনুর রশিদ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় উদ্বোধন করা হয়েছে নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার। বন্দরের বিভিন্ন সেবা এক ছাদের নিচে এনে ব্যবহারকারীদের সময় ও ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই এ বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল পৌনে ১২টার দিকে বন্দরের ৪ নম্বর গেট সংলগ্ন নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার ভবনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের মেম্বার (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, মেম্বার (অর্থ) মো. মাহবুব আলম তালুকদার, মেম্বার (প্রকৌশল) কমডোর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েল, মেম্বার (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. সামীমুজ্জামানসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

বেলুন উড়িয়ে এবং স্মারক ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান 

প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য রাখেন।বক্তব্যে নতুন ভবনের বিভিন্ন দিকসহ সামগ্রিক বিষয়ে বক্তব্য দেন।

এতদিন বন্দরের বিভিন্ন সেবা নিতে ব্যবহারকারীদের বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হতো। ফলে নিরাপত্তা, যানজট ও সময়ক্ষেপণের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু হওয়ায় এখন থেকে বন্দরের মূল কার্যক্রমে প্রবেশ না করেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এতে বন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি সেবার গতি ও দক্ষতাও বাড়বে।

চেয়ারম্যান জানান, প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবন থেকে মাসিক প্রায় ৫ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে হিসেবে এক বছরের মধ্যেই নির্মাণ ব্যয়ের অর্থ উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান আইএসপিএস (ISPS) কোড অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এটি নিরাপত্তা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারটি বন্দরের অভ্যন্তরে ছিল। সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রবেশ করতেন। এতে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও যান চলাচলে চাপ সৃষ্টি হতো। নতুন ভবন চালুর মাধ্যমে সেই চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

২০২২ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটির নিচতলায় রয়েছে রিসেপশন ও তথ্যসেবা কেন্দ্র। প্রথম তলায় টোকেন বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনটি ফ্লোরে বন্দরের বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হবে। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে ব্যাংকিং বুথ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা একই স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন।

এ ছাড়া ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। অবশিষ্ট তিনটি তলা বন্দরের নিজস্ব প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর ফলে আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্য সেবাগ্রহীতারা দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল ও আধুনিক সেবা ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) পরিচালনাগত দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা, ডিজিটাল আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান রক্ষায় সর্বকালের অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জন করেছে। কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব উদ্বৃত্তে নতুন ইতিহাস গড়েছে বন্দরটি। একই সঙ্গে শতভাগ কাগজবিহীন সেবা, শূন্য অপেক্ষমাণ সময়, অত্যাধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও দক্ষ সমুদ্রবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে।২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউস, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫১ টিইইউস বেশি। প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩ মেট্রিক টন বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

জাহাজ হ্যান্ডলিংয়েও রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৪ হাজার ৭৭টি জাহাজের পরিবর্তে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ৩৩৬টি জাহাজ পরিচালনা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২৫৯টি বেশি জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

রাজস্ব উদ্বৃত্তে সর্বকালের সেরা অর্জন

আর্থিক ক্ষেত্রেও নজিরবিহীন সাফল্য পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রাজস্ব ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ফলে রাজস্ব উদ্বৃত্ত বেড়ে ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। আয়কর পরবর্তী উদ্বৃত্তও সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা হয়েছে।

এছাড়া টার্মিনাল ম্যানেজার দপ্তরের সরাসরি রাজস্ব আদায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

জাহাজের অবস্থানকাল কমে অপারেশন আরও গতিশীল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে। ফলে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। এতে শিপিং কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় কমেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।

ড্রেজিং ব্যবস্থাপনায়ও নতুন নজির গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নিজস্ব ড্রেজার ব্যবহার ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে প্রতি ঘনমিটার ড্রেজিং ব্যয় কমিয়ে ৩৭৫ টাকা ৬৭ পয়সায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৩৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২০ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর ফলে গড়ে ৪৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। একই সঙ্গে খালের মুখ পর্যন্ত ড্রেজিং করায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রায় ৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে পুরোপুরি ডিজিটাল ও স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরের অংশ হিসেবে শতভাগ অনলাইন প্রবেশপত্র ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে।

বর্তমানে বন্দরের সব গেটে অনলাইন প্রবেশপত্র ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ট্রাকচালকদের আর লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হয় না। মোবাইল আর্থিক সেবা বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করে আগেই প্রবেশপত্র সংগ্রহ করা যাচ্ছে। কিউআর কোড ও বারকোড স্ক্যানের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডেই যানবাহন বন্দরে প্রবেশ ও বের হতে পারছে।

এছাড়া ইলেকট্রনিক ডেলিভারি আদেশ, অনলাইন জাহাজ অনাপত্তিপত্র, অনলাইন কার্ট টিকিট, ই-চালানসহ বিভিন্ন সেবা সম্পূর্ণ কাগজবিহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থার সঙ্গে বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা ব্যবস্থা সরাসরি যুক্ত হয়েছে। ফলে কনটেইনার, জাহাজ, বিল অব এন্ট্রি এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে আদান-প্রদান ও নজরদারি সম্ভব হচ্ছে।

বন্দর ব্যবস্থাপনাকে একীভূত করতে চালু হয়েছে ‘সিপিএ স্কাই’ নামের নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এই ব্যবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমস, ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট এবং মাল পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অত্যাধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে সম্ভাব্য সাইবার হামলা শনাক্তকরণ, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, সেবা সচল রাখা, কৃত্রিম ট্রাফিক হামলা প্রতিরোধ, সার্বক্ষণিক নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা পরিচালনা কেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা বাস্তবায়নে 'শূন্য পর্যবেক্ষণ' অর্জন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। অর্থাৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো নেতিবাচক মন্তব্য বা আপত্তি পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা-এর জন্য বাংলাদেশে জাতীয় সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে মনোনীত হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

আবারও শূন্য অপেক্ষমাণ সময়

বন্দরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় আবারও শূন্য দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে বহির্নোঙরে জাহাজকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। এতে শিপিং কোম্পানির ব্যয় কমছে, আমদানিকারক দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরাও নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠাতে পারছেন।

বহির্নোঙর এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতি ও চুরি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। প্রশিক্ষিত বন্দর প্রহরী নিয়োগ, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত টহল এবং আধুনিক জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

আগামী ১৫ বছরের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০৪০ সাল পর্যন্ত কার্গো ও কনটেইনার পরিবহনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৮৭ লাখ টিইইউস কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, মাতারবাড়ী টার্মিনাল, ভারী মালামাল জেটি এবং বে কনটেইনার ও মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই অর্জন শুধু রাজস্ব বা পরিচালনগত সাফল্য নয়; বরং বিশ্বমানের স্মার্ট, নিরাপদ ও আধুনিক সমুদ্রবন্দর হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

 

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL