শিরোনামঃ

ঋণের চাপে নিজেকে নিজে অপহরণ!

ঘটনার বাস্তবরুপ দিতে সাজানো ভিডিও ছড়ানো হয়।উদ্ধারের পর বেরিয়ে আসে পরিকল্পিত সাজানো অপহরণের ঘটনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

ঋণের চাপ থেকে রেহাই পেতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ দাবির ভিডিও ছড়ানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। টানা অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এটি প্রকৃতপক্ষে কোনো অপহরণের ঘটনা নয়; বরং ছিল পূর্বপরিকল্পিত নাটক।

পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে রীনা আক্তার (৩২) তার স্বামী মো. রাশেদুল আলম (৩৮) নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের দুই দিন পর তিনি থানায় একটি ভিডিও জমা দেন, যেখানে দেখা যায় দুই ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র (রামদা) গলায় ধরে রাশেদুল আলমকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হাটহাজারী থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত শুরু করে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ভিডিও যাচাই, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। হাটহাজারী ও রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

তদন্ত চলাকালে ভিক্টিমকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ে। একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তি পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশ ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে তদন্ত অব্যাহত রাখে।

অবশেষে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া থানার দক্ষিণ রাজানগর বাখরুঘাটা এলাকায় রাশেদুল আলমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। টানা দুই দিনের অভিযানের পর গত ৭ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাটহাজারী থানা পুলিশের একটি দল আত্মগোপনে থাকা রাশেদুল আলমকে নিরাপদে উদ্ধার করে। একই সময় তার দুই সহযোগী মো. ইমরান হোসেন (৩৫) ও মো. ইব্রাহিম ওরফে বাপ্পি (৩২)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল আলম স্বীকার করেন, তিনি কোনো অপহরণের শিকার হননি। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পাওনাদারদের চাপ এড়াতে তিনি আত্মগোপনে যান। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দুই সহযোগীর সহায়তায় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং মুক্তিপণের দাবি দেখিয়ে ঘটনাটিকে বাস্তব অপহরণ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।

পুলিশ জানায়, দক্ষ তদন্ত, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অল্প সময়েই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। এতে একটি পরিকল্পিত অপহরণের নাটক উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি জনমনে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিরও অবসান ঘটে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সকলকে গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের সাজানো ঘটনা ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL