চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১নং রাজানগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বগাবিলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের বাড়ি, পুরুষশূন্য পরিবার, দোকান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সর্বশেষ বুধবার (১২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১টার দিকে বগাবিলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মরহুম মাওলানা সিদ্দিক আহমদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, চোর রান্নাঘরের চালের টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। এ সময় ঘরের একটি কক্ষের দরজা বাইরে থেকে লক করে দেওয়া হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মরহুম মাওলানা সিদ্দিক আহমদের স্ত্রী নুর আয়শা বেগম বলেন, “চোরকে দিনের বেলায় আমাদের বাড়ির উঠানে দেখেছি। রাতে ঘরে আমার ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি ছিল। চোর টিন কেটে ঘরে ঢুকে ভাইয়ের রুমের দরজা লক করে দিয়ে চুরি করে। ছেলের বউ একা থাকায় ভয়ে কাউকে ডাকতে পারেনি। আমরা এখন চরম অনিরাপত্তায় রয়েছি।”
ইসলামপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রফিদ অভিযোগ করে বলেন, তার শ্বশুরবাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগ নিয়ে এলাকার চিহ্নিত চোরেরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বগাবিলী এলাকায় এর আগেও একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। পার্শ্ববর্তী প্রবাসী আহমদ খোকনের বাড়িতে গত এক মাসের মধ্যে দুইবার চুরি হয়েছে। তার স্ত্রী রিজু আক্তার জানান, স্বামী ও ছেলে বিদেশে থাকায় তিনি ও তার ছেলের বউ বাড়িতে থাকেন। এই সুযোগে দুই দফায় চোরেরা ঘরে ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও টাকা নিয়ে গেছে।
একই এলাকার প্রবাসী আহমদ কবিরের বাড়িতেও গত দুই মাসে দুইবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। তার স্ত্রী সুমি আক্তার জানান, বাড়ির পেছনের টিনের চাল কেটে একই কায়দায় দুইবার চুরি করা হয়েছে। তিনি ছোট ছেলেকে নিয়ে একা থাকেন।
এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফুরের বাড়ি থেকে প্রায় এক মাস আগে দুটি জানালা ও একটি লোহার দরজা চুরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত এক মাসে এলাকার একটি দোকান, মসজিদের দানবাক্স ও খানকাহ শরীফের দানবাক্সেও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এর মধ্যে গত দুই দিন আগে একই এলাকার বাসিন্দা ইউছুপ আলীর মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে পথে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে গেলে চোর সেটি ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সকালে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বলেন, “বগাবিলী একসময় শান্তিপূর্ণ এলাকা ছিল। বর্তমানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, “বগাবিলী ব্রিজের পরের এই এলাকাটি বর্তমানে চোর-ডাকাতের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের বাড়িগুলোকে টার্গেট করে বারবার চুরির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরীর কাছেও বগাবিলীর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে ধারাবাহিক অপরাধ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই এলাকায় বারবার একই ধরনের চুরি হওয়ায় এর পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অধিকাংশ পরিবারে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগ নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ফলে নারী ও শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। রাতের বেলায় পুলিশের টহল জোরদার, সন্দেহভাজন ও চিহ্নিত চোরদের দ্রুত শনাক্ত, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান এবং এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
একই এলাকায় ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বগাবিলী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।