শিরোনামঃ

রাঙ্গুনিয়া ইসলামপুর ফুলতলী টিলা কবরস্থান–পূর্ব নেজামশাহপাড়া সড়কের বেহাল দশা

বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, দুর্ভোগে ২০০ পরিবারের মানুষ—দ্রুত সংস্কারের দাবি

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নেজামশাহপাড়া ও খলিফাপাড়ার মধ্যবর্তী ফুলতলী টিলা কবরস্থান থেকে পূর্ব নেজামশাহপাড়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের দুই পাশের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় ভাঙতে ভাঙতে সড়কটি এখন অনেকটাই সরু হয়ে গেছে। এর ওপর সড়কের মাঝখানে থাকা নাঁসি ভেঙে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে চরম জনদুর্ভোগ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন অংশের দুপাশ ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কটি এতটাই সরু হয়ে পড়েছে যে পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভাঙা নাঁসির স্থানে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোরকমে চলাচল করছেন। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, পূর্ব নেজামশাহপাড়া থেকে পার্শ্ববর্তী পশ্চিম নিশ্চিন্তাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষের চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। জরুরি প্রয়োজনে গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে যাতায়াতের সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো এই চলাচলের সড়কটি পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের পক্ষ থেকে কেটে নেওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম বলেন, “আমাদের এলাকার একমাত্র চলাচলের পথ এটি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় সড়কটি ভাঙতে ভাঙতে এখন জমির আইলের মতো হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে ভারী বর্ষণের কারণে সড়কের মাঝখানে থাকা নাঁসি ভেঙে পড়ে। এতে আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। এখন আবার শুনছি, পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা সড়কটি কেটে নিয়ে যাবে। দ্রুত সংস্কার না করলে আমরা আরও বড় বিপাকে পড়ে যাব।”

আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ বাঁচা মিয়া বলেন, “নাঁসি ভেঙে যাওয়ায় ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। এলাকাবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে আপাতত বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোভাবে চলাচল করছি। কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়।”

এলাকাবাসী বলছেন, শুধু সাময়িকভাবে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙা নাঁসির স্থানে দ্রুত একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণ এবং সড়কের ভাঙা অংশ মাটি ভরাট ও সংস্কার করা জরুরি। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে সড়কের সীমানা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, একটি সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিশুদের স্কুল, কলেজ ও বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাহত হওয়া, রোগী পরিবহনে দুর্ভোগ এবং প্রায় ২০০ পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়। তাই জনস্বার্থে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করে ফুলতলী টিলা কবরস্থান–পূর্ব নেজামশাহপাড়া সড়কটি পরিদর্শন, ভাঙা নাঁসির স্থানে টেকসই কালভার্ট নির্মাণ এবং পুরো সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাদের প্রত্যাশা, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের বিষয়টি সংসদ সদস্যের সদয় দৃষ্টিতে আসবে এবং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কটি আবারও জনসাধারণের নিরাপদ চলাচলের উপযোগী করা হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL