চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী এসি বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী লেগুনা (ম্যাজিক) গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভয়াবহ সংঘর্ষের কারণে লেগুনা গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে ছাদ উড়ে যায়। এ সময় লেগুনা গাড়ির ১ জন যাত্রী ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায় ও দশজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ডুলাহাজারা মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। তৎমধ্যে গুরুতর আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে একে একে মারা যান আরও তিনজন যাত্রীর মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে আহত ৫ জন যাত্রী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়াস্থ বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছিল।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়ন সেগুন বাগিচা এলাকার বাসিন্দা মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারীয়া এলাকার মৃত আবুল কাসেমের ছেলে মো. রফিক (২৯), চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের সিয়ালকাটা এলাকার মৃত মন্জুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭), ঈদগাঁও উপজেলার নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে জিয়াবুল হক (২৫)।
আহতরা হলেন, কক্সবাজার ঈদগাঁও উপজেলার নতুন অফিস এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে জিয়াবুল হক (৪০), ঈদগাঁও উপজেলা নাপিতখালী এলাকার সৈয়দ আলমের ছেলে মো. সরোয়ার (১৯), নাপিতখালী এলাকার আলী মিয়ার ছেলে সৈয়দ আলম (৫০), চকরিয়া উপজেলার মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার বদরুদ্দোজা ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), টেকনাফ উপজেলার কেরনতলী এলাকার রহমত করিমের ছেলে সৈয়দ করিম (৩০)।
মহাসড়কের মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন- বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লাল সবুজ পরিবহনের যাত্রীবাহী এসি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৮০৯০) চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক ঈদগাঁও উপজেলা থেকে চকরিয়ামূখী লেগুনা পরিবহনের (স্থানীয় ভাষায় ম্যাজিক গাড়ি) যাত্রীবাহী গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ওইসময় ভয়াবহ সংঘর্ষটি এমন ভাবে ছিল যে, লেগুনা গাড়ির ছাদ পর্যন্ত উড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা অন্তত ১০ জন যাত্রীর সকলেই গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হন।
সড়ক দুর্ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন সহায়তায় মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতাল ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় একজন মারা যান। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় বেলা একটার দিকে আরও তিনজন মারা যায় বলে হাইওয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়।
সড়ক দুর্ঘটনার ব্যাপারে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জামান জানান- ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় লেগুনা গাড়ির যেসব যাত্রী ছিল তারমধ্যে একে একে চারজন মারা যায়। আহত হন আরও অন্তত পাঁচজন যাত্রী। তারা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
তিনি আরও জানান- ভোরে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ার সময় সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় ক্রেন দিয়ে মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নেওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।