যেকোনো দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে গেলে শতভাগ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত, অভাব শুধু গুণগত বা মানসম্মত শিক্ষার। শিক্ষার মান উন্নত করতে গেলে প্রয়োজন অভিভাবক ও শিক্ষকের ভূমিকাই শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রগণ্য।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ ও এসএসসি পরীক্ষায় এ+প্রাপ্ত) কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনির আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন,বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য ডা: মীর আহমদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুল হকসহ বিভিন্ন শিক্ষানুরাগী বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথি জালাল আহমদ সিকদার বক্তব্যে বলেন, অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের সমন্বয় থাকা খুবই প্রয়োজন। শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবকদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষককে অত্যান্ত আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করার দায়িত্বও শিক্ষকদের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি এলাকার মানুষের সদিচ্ছা, আন্তরিকতায় কোন ধরণের ঘাটতি থাকতে পারবে না। স্থানীয়দের সুন্দর মনোভাব ও উদার মানসিকতা, মানবিক মন নিয়ে এগিয়ে না আসলে কখনো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুর্ণাঙ্গ রূপ পাবে না।
অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের সক্ষমতা, কৌশল ও নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করবে শিক্ষার গুণগত মান ও মানসম্মত শিক্ষা। তাই সকল অভিভাবক নিজ নিজ সন্তানের পাঠদানের প্রতি সচেষ্ট হোন। নিয়মিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু বই খাতা-কলম নিয়ে যাওয়া আসা করলে হবে না, তারা ক্লাসে কতটুকু মনোযোগী ছিল, পাঠদান সঠিক ভাবে করছে কিনা, নাকি বিদ্যালয়ে না গিয়ে বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে বাড়ি ফিরছে সেই ব্যাপারে সজাগ থাকাও শিক্ষক ও অভিভাবকদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই সময় থাকতে সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয় থাকা খুবই দরকার। আন্তরিকতার সহিত বিদ্যালয়ের পড়া লেখার মানোন্নয়নে পাশে থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
আলোচনা শেষে সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ও জেলায় মানবিক বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়া মেধাবী কৃতি শিক্ষার্থী জন্নাতুল মাওয়া ইসফা’কে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে সম্মাননা করা হয়।