শিরোনামঃ

চকরিয়ায় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে ৫ পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ৭

নাজিম উদ্দিন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলি ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় পাঁচটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পহরচাঁদা ফাজিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গত ১৯ আগস্ট দুপুরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পাঁচ পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত)  জিএএম সাইফুল হক ও সহকারী শিক্ষক তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই নারীর মাথায় গুরুতর জখম হয়। আহতদের মধ্যে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা আজবাহার বেগমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, তুহিন আক্তার (৩৫), তার মেয়ে তৌফিকা ইয়াসমিন (২০), তৈয়বা খানম (৪০), ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা আজবাহার বেগম (৩৫), আনার হোসনা (১৮), তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সায়মা জান্নাত (১৮) ও নিলুফা আক্তার (৫০)।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পহরচাঁদা ফাজিল মাদরাসা-সংলগ্ন এলাকায় পাঁচটি পরিবার প্রায় ৬০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। তারা দিলদার বেগম ওরফে ধলুবিবির ওয়ারিশ বলে দাবি করেছেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মাদরাসা প্রতিষ্ঠার আগ থেকেই তাদের পূর্বপুরুষরা ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন।

ভুক্তভোগী কায়সার উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন আগে তারা বসতভিটার সীমানায় ঘেরাবেড়া দিচ্ছিলেন। এ সময় মাদরাসার অধ্যক্ষ সাইফুল হক ও শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম সেখানে গিয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা শিক্ষার্থীদের ডেকে আনেন এবং ঘেরাবেড়া ভাঙচুরের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কায়সার উদ্দিন বলেন, তারা ঘরের ভেতরে ঢুকে নারীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা এসে আমাদের উদ্ধার করে।

তিনি আরও দাবি করেন, আমরা প্রায় ৬০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। আমার মা ধলুবিবি ১৯৯৭ সালে ১০ শতক এবং ২০২৩ সালে আরও দুই শতক জমি মাদরাসায় দান করেছেন। নতুন একাডেমিক ভবনের জন্যও দুই শতক জায়গা দেওয়া হয়েছে। এরপরও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আদালতের রায়ও আমাদের পক্ষে রয়েছে।

কায়সার উদ্দিনের অভিযোগ, তার দুই ছেলে পহরচাঁদা মাদরাসায় পড়ালেখা করে। একজন দশম ও অন্যজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাদের মাদরাসায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং শ্রেণিকক্ষ থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার মাদরাসায় যাওয়ার পর ক্লাস চলাকালে শ্রেণিশিক্ষক মোবাইলে প্রিন্সিপাল স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। পরে স্যার আমাকে ক্লাস শেষ করে চলে যেতে বলেন। বাধ্য হয়ে ক্লাস না করেই বাড়িতে চলে আসি।

অন্যদিকে আহত তৈয়বা খানম অভিযোগ করেন, মাদরাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তাদের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তারা আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার এবং আগুনে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিচ্ছে। তৌহিদ মাস্টার ঘরে ঢুকে জঙ্গির মতো হামলা করেছেন।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে পহরচাঁদা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জিএএম সাইফুল হক বলেন, কায়সার কিংবা ওই ছাত্র আমাকে কিছুই জানায় নি। আমাকে না জানিয়ে কেন আপনাকে জানাল? ক্লাশ না করার নিষেধ করলে আগে আমাকে জানাতে পারতো। তবে বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। 

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। দুপক্ষ এজাহার জমা দিয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:

এলাকার খবর

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL